Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এসআইআর’এ ৪৭ হাজার নাম বাদ, রাজ্যের সবচেয়ে কম ভোটারের বিধানসভা ভাটপাড়া

এসআইআর-এ বহু নাম বাদ যাওয়ায় ভোটারের নিরিখে রাজ্যের সবচেয়ে ছোটো বিধানসভা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভাটপাড়া। যেখানে আগে ভোটার ছিল ১ লক্ষ ৫৫ হাজার।

এসআইআর’এ ৪৭ হাজার নাম বাদ, রাজ্যের সবচেয়ে কম ভোটারের বিধানসভা ভাটপাড়া
  • ৩১ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: এসআইআর-এ বহু নাম বাদ যাওয়ায় ভোটারের নিরিখে রাজ্যের সবচেয়ে ছোটো বিধানসভা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভাটপাড়া। যেখানে আগে ভোটার ছিল ১ লক্ষ ৫৫ হাজার। ৪৭ হাজার নাম বাদ চলে যাওয়ায় এখন ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৮ হাজার। বুথের সংখ্যা ১৬৩। ফলে কিছু কিছু বুথে ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০০ বা ৬০০। যেখানে সর্বাধিক ভোটার থাকতে পারে ১২০০। ওয়ার্ডের সংখ্যা মাত্র ১৭। কোন গ্রামীণ এলাকা নেই। ভাটপাড়া পুরসভার ১৭টি ওয়ার্ড নিয়ে এই বিধানসভা।  

Advertisement

তবে এলাকা বিন্যাসের ভিত্তিতে ছোটো হলেও অত্যন্ত স্পর্শকাতর ভাটপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র। গোলমাল অশান্তির জন্য বারবার খবরের শিরোনামে থেকেছে। বোমাবাজি, শ্যুট আউটের ঘটনায় বারবার উঠে এসেছে এই বিধানসভার নাম। পরিসংখ্যান থেকে জানা গিয়েছে, এই বিধানসভা কেন্দ্রে যে ৪৭ হাজার নাম বাদ গিয়েছে, তার মধ্যে অধিকাংশ অবাঙালি ভোটার। যাদের বিহারেও নাম ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশ জুট মিল শ্রমিক। 
রাজ্যের উত্তেজনাপ্রবণ বিধানসভা কেন্দ্রের একটি ভাটপাড়া। স্থানীয়দের দাবি আনুযায়ী, সেখানে বিহার বা উত্তরপ্রদেশের মত ধর্মের ভিত্তিতে, জাতপাতের ভিত্তিতে ভোট হয়। এবার তৃণমূল সেই প্রথা ভাঙতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে। 
তৃণমূল প্রার্থী অমিত সাউ ভূমিপুত্র হওয়ায় ভাটপাড়া তার হাতের তালুর মতো চেনা। তিনি বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন। একটি করে গীতা সকলকে দিচ্ছেন। বলছেন, একবার ভাটপাড়ায় পরিবর্তন আনুন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের স্পর্শ লাগবে ভাটপাড়ায়। যার উদাহরণ ভাটপাড়া হাসপাতালে স্মার্ট ওপিডি তৈরি হয়েছে। তিনি নিজেকে সাউ সমাজের প্রতিনিধি বলে দাবি করছেন। এই বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় অর্ধেক ভোটার সাউ সমাজের। 
গত সাতবছরের বিধায়ক পবন সিং অবশ্য জেতার ব্যাপারে নিশ্চিত। বাপ ঠাকুরদার ‘গড়’ হিসাবে পরিচিত ভাটপাড়া তাঁদের কখনও ফেরায়নি, এবারও ফেরাবে না বলে তিনি নিশ্চিত। সকলের বাড়িতে ক্যালেন্ডার দিয়ে বিধায়ক ফান্ডের টাকায় তিনি কি কাজ করেছেন তা তুলে ধরেছেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দিচ্ছেন পবন সিং। তিনি বলছেন, এই বিধানসভা এলাকার মানুষ প্রলোভন বা অপপ্রচারের কাছে মাথা নোয়াবে না, বিজেপির সঙ্গেই থাকবে। এখানকার মানুষ আমাকে চেনেন। গত সাত বছর দেখেছেন। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। বিধায়ক ফান্ডের টাকা আমি পুরো খরচ করেছি। আমার লক্ষ্য ছিল স্কুল ও হাসপাতাল। প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা খরচ করে হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন এবং ইউএসজি মেশিন দিয়েছি। প্রায় প্রতিটি স্কুলে কম্পিউটার দেওয়া হয়েছে। ভাটপাড়ার মানুষ আমাদের সঙ্গে আছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ