Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রথম দফায় জেলাতে তৈরি ৪৩ হাজার বাড়ি! দ্বিতীয় দফার ৮৬ হাজার উপভোক্তার সুপার চেকিং শেষ

বাংলার বাড়ি প্রকল্পে রাজ্যের মধ্যে নজির গড়ল নদীয়া জেলা। প্রথম দফায় ঘর নির্মাণে রাজ্যের শীর্ষে রয়েছে এই জেলা। প্রশাসনিক হিসেবে দেখা গিয়েছে, নদীয়ার মোট ৪৬ হাজার ৪৩৮ জন উপভোক্তার মধ্যে ৪৩ হাজার ৩২৫ জন ইতিমধ্যেই তাঁদের বাড়ি তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করেছেন।

প্রথম দফায় জেলাতে তৈরি ৪৩ হাজার বাড়ি! দ্বিতীয় দফার ৮৬ হাজার উপভোক্তার সুপার চেকিং শেষ
  • ১৩ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বাংলার বাড়ি প্রকল্পে রাজ্যের মধ্যে নজির গড়ল নদীয়া জেলা। প্রথম দফায় ঘর নির্মাণে রাজ্যের শীর্ষে রয়েছে এই জেলা। প্রশাসনিক হিসেবে দেখা গিয়েছে, নদীয়ার মোট ৪৬ হাজার ৪৩৮ জন উপভোক্তার মধ্যে ৪৩ হাজার ৩২৫ জন ইতিমধ্যেই তাঁদের বাড়ি তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করেছেন। অর্থাৎ, ৯৩ শতাংশ উপভোক্তা প্রকল্পের কাজ শেষ করেছেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলার বাড়ি প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে উপভোক্তাদের হাতে পৌঁছেছে। সেই অর্থ দিয়ে ঘরের লিন্টেল পর্যন্ত নির্মাণের নির্দেশ ছিল। তারপর দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাওয়ার পরই উপভোক্তারা বাড়ি তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করেছেন। যদিও তিন হাজারেরও বেশি উপভোক্তা টাকা পাওয়া সত্ত্বেও এখনও নির্মাণের কাজ শেষ করতে পারেননি।

Advertisement

এই প্রকল্পে প্রতিটি উপভোক্তাকে রাজ্য সরকার মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য দিচ্ছে। কেন্দ্রের প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অর্থ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর রাজ্য সরকারের নিজস্ব খরচেই বাংলার বাড়ি প্রকল্পের কাজ চালু রয়েছে। কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমান বলেন, মোদি সরকার আবাস যোজনার টাকা বন্ধ করলেও রাজ্য সরকার প্রান্তিক মানুষের মাথার উপর ছাদ তুলে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলার বাড়ি প্রকল্প তারই বাস্তব রূপ। প্রথম দফার পর এখন শুরু হয়েছে দ্বিতীয় দফার কাজ। এই দফায় নদীয়ার মোট ৮৬ হাজার উপভোক্তার সুপার চেকিংয়ের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ২ হাজার ৬৪ জনের ক্ষেত্রে সমীক্ষা সন্দেহজনক হওয়ায় পুনরায় যাচাই করা হয়। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই উপভোক্তাদের ইউডিআইএন রেজিস্ট্রেশনের কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় থানাগুলিকেও উপভোক্তাদের তালিকা পাঠানো হয়েছে, যাতে পুলিশ প্রশাসনও সমীক্ষা প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারে। দ্বিতীয় দফার উপভোক্তারা জেলার বিভিন্ন ব্লকে ছড়িয়ে আছেন। রানাঘাট-২ ব্লকে ৬৪৯৫ জন, কল্যাণী ব্লকে ২৬৯৭ জন, চাপড়া ব্লকে ৪৮৪৯ জন, করিমপুর-২ ব্লকে ৪৮০৩ জন, কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকে ৩৬৬৯ জন, নবদ্বীপ ব্লকে ২৮২৪ জন এবং কালীগঞ্জ ব্লকে ১৩১৯ জন উপভোক্তা এই প্রকল্পের আওতায় ঘর নির্মাণের অর্থ পাবেন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে রাজ্য সরকারের তরফে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে আবেদনকারী হিসেবে ১ লক্ষ ৮১ হাজার নামের তালিকা তৈরি হয়। সমীক্ষায় দেখা যায়, এদের মধ্যে ১ লক্ষ ৬৭ হাজার জনের নাম আগেই প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার তালিকায় ছিল। শেষ পর্যন্ত নদীয়ায় ৪৬ হাজার উপভোক্তা প্রথম দফায় ঘর নির্মাণের জন্য নির্বাচিত হন। তাঁদের জন্য রাজ্য সরকার মোট ২৭৮ কোটি ৬২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ করে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার অনেক আগেই দ্বিতীয় দফার প্রস্তুতি কার্যত শেষের দিকে। এখন জেলাজুড়ে দ্রুত গতিতে রেজিস্ট্রেশন ও পরবর্তী কিস্তির টাকা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, নদীয়ার এই সাফল্য শুধু বাংলার বাড়ি প্রকল্প বাস্তবায়নের নয়, রাজ্য সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, নদীয়ায় প্রথম দফার কাজ প্রায় সম্পূর্ণ। এবার দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রেও আমরা সময়ের অনেক আগেই সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্যে এগচ্ছি। মানুষের মাথার উপর ছাদ তুলে দেওয়াই আমাদের অগ্রাধিকার।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ