নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গত অর্থবর্ষে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রায় ৪৩০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে গ্রামবাংলার বিবিধ উন্নয়নে। রাস্তাঘাট, নিকাশি, আলো ইত্যাদি সহ আড়াই লক্ষের বেশি পরিকাঠামো (নাগরিক পরিষেবামূলক) তৈরি বা সংস্কার হয়েছে এই টাকায়। ‘১০০ দিনের কাজ’ বন্ধ থাকলেও গ্রামীণ উন্নয়নের গতি অনেকটাই অব্যাহত থেকেছে অর্থ কমিশনের টাকার সৌজন্যে। ২০২৪-২৫ সালে এই টাকা খরচের নিরিখে দেশের মধ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের পরেই রয়েছে বাংলা। আধিকারিকরা মনে করছেন, গত বছর প্রায় তিন মাস ধরে রাজ্যে লোকসভা ভোট চলায় খরচ কিছুটা কম হয়েছে। তা না হলে এই অঙ্ক সাড়ে চার হাজার কোটি ছাড়িয়ে যেত বলেই মনে করছেন তাঁরা। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টায়েড ও আনটায়েড ফান্ড থেকে গ্রামে গ্রামে ন্যূনতম পরিষেবামূলক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়। রাস্তাঘাট, নিকাশি, জলের ব্যবস্থা যেমন করা হয়েছে, পাশাপাশি অনেক জেলা উদ্যোগ নিয়ে বৃষ্টির জল ধরে রেখে পরবর্তী সময়ে তা অন্য কাজে ব্যবহারের প্রকল্প রূপায়ণ করেছে। এছাড়া, কমিউনিটি স্যানিটারি কমপ্লেক্স বা শৌচালয় নির্মাণ হয়েছে অনেক গ্রামীণ বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে। বাচ্চাদের জন্য পার্ক এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে একাধিক জেলা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৩৮০ কোটি), মুর্শিদাবাদের (৩৭০ কোটি) মতো বড় জেলাগুলিতে অর্থ কমিশনের টাকা তুলনামূলক বেশি খরচ হয়েছে। ২০২৫-২৬ শুরু হতেই দপ্তরের পক্ষ থেকে অর্থ কমিশনের টাকা খরচের গতি আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ, এই অর্থ কমিশনের মেয়াদ আগামী বছর মার্চে শেষ হচ্ছে। তাই প্রাপ্য টাকা যতটা সম্ভব গ্রামীণ উন্নয়নে খরচের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলাগুলিকে।



