সংবাদদাতা, ডোমকল: গায়ের রং শ্যামলা, দোহারা চেহারা। সাজগোজ, বেশভূষা সাধারণ কৃষকের মতো। দেখে মনে হতে পারে বয়স চল্লিশের কোঠায়। অথচ আধার কার্ডে লেখা রয়েছে ৮৮ বছর! বয়সের এই গরমিলের জেরেই নানা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি। অথচ একাধিকবার আধার অফিসের দ্বারে দ্বারে কড়া নাড়িয়েও হয়নি কাজ, শেষ পর্যন্ত প্রতিবাদে ৩৯ বছরেই বার্ধক্য ভাতার সুবিধা চেয়ে প্রধানের দ্বারস্থ হলেন যুবক। একেবারে লিখিতভাবে সমস্যার কথা জানিয়ে প্রধানের কাছে বার্ধক্যভাতার সুবিধা নেওয়ার জন্য দরবার করলেন তিনি। যুবকের এই কাণ্ড জানাজানি হতেই মঙ্গলবার শোরগোল পড়ে যায় সাগরপাড়ার সাহেবনগর পঞ্চায়েতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর নাম জমিরুদ্দিন শেখ। বাড়ি সাগরপাড়ার সাহেবনগর পঞ্চায়েতের খয়েরতলায়। আধার কার্ড হাতে পাওয়ার সময় কল্পনাও করতে পারেননি, এটাই একদিন জীবনের সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ ডেকে আনবে। নাম, ছবি, ঠিকানা সব কিছু ঠিক থাকলেও আধার কার্ডে জন্মতারিখ ভুল রয়েছে। সেখানে বয়স বলছে ৮৮ বছর, অথচ স্কুল সার্টিফিকেট অনুযায়ী তাঁর প্রকৃত বয়স ৩৯। একাধিকবার আধার অফিসে সংশোধনের আবেদন করলেও প্রতিবারই রিজেক্ট হয়ে গিয়েছে।
ফলে নানান সমস্যায় পড়ছেন জমিরুদ্দিন। দিনমজুরের কাজ করেন তিনি। মাস কয়েক আগে কেরলে কাজ খুঁজতে গিয়ে আধারের বয়স দেখে তাঁকে বাংলাদেশি বলেও কটূক্তি শুনতে হয়েছে। দেশে ফিরে সীমান্তবর্তী এলাকায়ও কাজের সময়ে একই সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। ব্যাংকিং থেকে শুরু করে সরকারি পরিষেবা পেতেও পড়ছেন বিপাকে। হতাশ হয়ে তাই প্রতিবাদস্বরূপ বার্ধক্যভাতার আবেদন করেছেন তিনি। মঙ্গলবার পঞ্চায়েতে হাজির হয়ে লিখিতভাবে বিস্তারিত জানিয়ে বার্ধক্য ভাতার আবেদন করে বসেন।
যুবক বলেন, আমার আসল বয়স ৩৯ বছর। স্কুলের সার্টিফিকেটে সেটা স্পষ্ট লেখা আছে। কিন্তু আধারে ভুল করে ৮৮ বছর দেখাচ্ছে। সেই জন্য কাজ খুঁজতে গেলে সবাই হাসাহাসি করে, কেউ বলে বাংলাদেশি, কেউ বলে এত বুড়ো হয়ে আবার কাজ করতে এসেছ! আধার অফিসে কতবার গিয়েছি, কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। শেষমেশ ভেবেছি, যখন আধার বলছে আমি ৮৮, তখন ওই বয়সের সুবিধাটাই চাই। তাই প্রতিবাদস্বরূপ বার্ধক্যভাতার আবেদন করেছি।
পঞ্চায়েত প্রধান মজিবর রহমান বিশ্বাস বলেন, এক নজরে দেখেই বোঝা যায় মানুষটির বয়স চল্লিশের আশপাশে হবে। অথচ আধার কার্ডে লেখা রয়েছে ৮৮ বছর। ভাবা যায়! আধারের এই ভুলের জন্য একজন মানুষকে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা ওঁর পাশে আছি, সমস্যা মেটাতে যতটা সম্ভব সহায়তা করব।
বর্ডার ডেভেলপমেন্ট কমিটির সম্পাদক জুলফিকার আলি বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় এমন ঘটনা একাধিক মানুষের সঙ্গেই ঘটেছে। আধার কর্তৃপক্ষের গাফিলতির জন্য সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আমরা চাই, দ্রুত সমাধান করা হোক। • আধার কার্ড। নিজস্ব চিত্র