মস্কো: রাশিয়ার পূর্ব সাইবেরিয়ার সামরিক বিমানঘাঁটিতে বড়সড় ড্রোন হামলা চালাল ইউক্রেন। জেলেনস্কির দেশের দাবি, রবিবারের হামলায় ধ্বংস হয়েছে ৪০টি রুশ যুদ্ধবিমান। হামলার বিষয়টি মেনে নিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর। তবে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে এখনও সরকারিভাবে কিছু জানায়নি ক্রেমলিন। একই দিনে ইউক্রেনীয় স্থলসেনার প্রশিক্ষণ শিবিরে পাল্টা হামলা চালায় রাশিয়া। পুতিন বাহিনীর আক্রমণে ১২ ইউক্রেনীয় সেনার মৃত্যু হয়েছে। আহত কমপক্ষে ৬০। দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিন বছরব্যাপী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা চালাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি, ইস্তানবুলে আলোচনায় বসেছিল রুশ-ইউক্রেন প্রতিনিধি দল। সেখানে বন্দি বিনিময়ে রাজি হয় দু’পক্ষ। তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এরইমধ্যে আজ, সোমবার ফের ইস্তানবুলে ফের এক দফা আলোচনা হওয়ার কথা। আলোচনায় বসার জন্য সম্প্রতি কিয়েভকে প্রস্তাব দিয়েছিল মস্কো। তাতে সাড়া দিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদামির জেলেনস্কি। জানিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট দিনে ইস্তানবুলে উপস্থিত থাকবেন তাঁর মন্ত্রী রুস্তেম উমেরভ। তবে রবিবারের ঘটনাবলির পর বৈঠকের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সূত্রের খবর, রবিবার ইরকুটস্ক অঞ্চলের স্রিডনি গ্রামের কাছে রুশ বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন। ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা (এসবিইউ) জানিয়েছে, হামলায় কমপক্ষে ৪০টি রুশ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। ধ্বংস হওয়া যুদ্ধবিমানের মধ্যে রয়েছে টিইউ-৯৫, টিইউ-২২এম৩। দু’টিই যুদ্ধে ব্যবহৃত রুশ বোমারু বিমান। ইউক্রেনের সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ড্রোন হামলায় কমপক্ষে একটি এ-৫০ যুদ্ধবিমানও ধ্বংস করা হয়েছে। স্রিডনির পাশাপাশি এদিন বেলায়া সহ চারটি রুশ বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালায় এসবিইউ। হামলার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন ইরকুটস্কের গভর্নর ইগর কোবজেভ। তিনি বলেন, ‘স্রেডনির বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার খবর পেয়েছি। সাইবেরিয়ায় এটাই প্রথম হামলা।’ ইতিমধ্যে হামলার একাধিক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে এসেছে। ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে, ড্রোন হামলার পর চারিদিক কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। সম্প্রতি ইউক্রেনে একাধিকবার ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রাশিয়া। কিয়েভের বুকে আছড়ে পড়ে একের পর রুশ সমরাস্ত্র।



