নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গাড়ি নিয়ে এবার ঠগ বাছতে গাঁ উজার হওয়ার জোগাড় লালবাজারে! শওকত মোল্লার কনভয়ে থাকা রেজিস্ট্রেশন ফেল কলকাতা পুলিসের পাইলট কারের ধাক্কায় বাইকচালকের মৃত্যুর পর বাহিনীর গাড়ি ঝাড়াই বাছাই করতে গিয়ে কার্যত মাথায় হাত পড়েছে লালবাজারের শীর্ষকর্তাদের।
লালবাজারের এক বিশেষ সূত্র জানাচ্ছেন, ‘কলকাতা পুলিসের প্রায় ৪০ শতাংশ গাড়ির বয়স ১৫ বছর পেরিয়ে গিয়েছে! অর্থাৎ ফিটনেশ ফেল। সংখ্যাটা ৫০ শতাংশেও পৌঁছতে পারে। মেয়াদ উত্তীর্ণ গাড়ি নিয়ে শওকত কাণ্ডের পর এখন মহাফাঁপরে পড়েছে লালবাজার। কারণ, আইন মেনে এই গাড়িগুলির নতুন করে ফিটনেস সার্টিফিকেট বা সিএফ করানো সম্ভব নয়। আবার রাতারাতি গাড়িগুলি বসিয়ে দেওয়া হলেও বাহিনীতে অচলাবস্থা দেখা দেবে। তাই জেনেবুঝে এই গাড়ি পথে নামাতে বাধ্য হচ্ছে লালবাজার। দীর্ঘদিন নতুন গাড়ি না কেনার ফলে সংকট দেখা দিয়েছে।
ওই সূত্রের দাবি, ‘কলকাতা পুলিসে সাধারণত পুলিস কমিশনারের নামে নতুন গাড়ি কেনা হয়ে থাকে। ফলে এই গাড়িগুলি সাদা বা প্রাইভেট নম্বর প্লেট হয়। মোটর ভেহিকেলস আইনে প্রাইভেট নম্বর প্লেটের সরকারি গাড়ি মেয়াদ পেরিয়ে গেলে আর সিএফ করানো যায় না। যদিও বাণিজ্যিক গাড়ি বা হলুদ নম্বর প্লেটের ক্ষেত্রে এমন বিধিনিষেধ নেই।’
এদিকে, শওকত কাণ্ডের পর লালবাজারের নির্দেশে কলকাতা পুলিসের সমস্ত ইউনিটের এমটিও’রা থানা, ট্রাফিক গার্ডে ফোন করে বাহিনীর মেয়াদ উত্তীর্ণ গাড়ির তথ্য জোগাড় শুরু করেছেন। দেখা যাচ্ছে, গোয়েন্দা বিভাগের ২৩টি মেয়াদ উত্তীর্ণ গাড়ি রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সামনে পড়ে রয়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা থানার ওসিদের লাল টাটা সুমোর। কেন এই সংকট? বাহিনীর একাংশের অভিযাগ, প্রথমত, দীর্ঘদিন নতুন গাড়ি না কেনার ফলে এই জটিলতা। দ্বিতীয়ত, কলকাতা পুলিসের শীর্ষকর্তারা নিজেদের ব্যবহারের জন্য আধুনিক মডেলের এসইউভি গাড়ি কিনলেও থানা ফাঁড়ির গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে তাঁরা উদাসীন! তৃতীয়ত, কলকাতা পুলিস নিজস্ব গাড়ি কেনার বদলে ভাড়া গাড়ি দিয়ে কাজ চালানোর নীতি এই সংকটের বড় কারণ।
তবে আশার কথা একটাই, ভাঙড় অধিগ্রহণের সময় ২০০টি ইলেকট্রিক গাড়ি কেনার জন্য রাজ্য সরকার ৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। আপাতত এই টাকা দিয়ে নতুন গাড়ি কিনে পরিস্থিতি সামাল দিতে চাইছে কলকাতা পুলিস। তবে বাহিনীতে গাড়ি সংকট নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি লালবাজারের কোনও কর্তা।