Bartaman Logo
১০ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্কুলের সুইমিং পুলে ছাত্রের দেহ উদ্ধার হওয়ার ৪০ দিন পার, নিষ্ক্রিয় পুলিশ

আসানসোল স্কুলের সুইমিং পুলে ছাত্রের মৃত্যু ৪০ দিন পার। পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিচার চেয়ে অভিভাবকরা আন্দোলন করছেন। বিস্তারিত পড়ুন।

স্কুলের সুইমিং পুলে ছাত্রের দেহ উদ্ধার  হওয়ার ৪০ দিন পার, নিষ্ক্রিয় পুলিশ
  • ১০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: নামজাদা স্কুলের গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে মর্মান্তিক ঘটনা। ২৮ মে স্কুলের সুইমিং পুলের পাশ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়ার নিথর দেহ উদ্ধার হয়। আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। একমাত্র পুত্র আদ্ভিক হিলারিয়ানের মৃত্যুর বিচার চেয়ে ৩০ মে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন মা। তারপর কেটে গিয়েছে ৪০ দিন। কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বিচার চেয়ে নেতা-মন্ত্রীদের দরজা দরজায় ঘুরছেন অসহায় বাবা, মা। বৃহস্পতিবার তাঁরা হাজির হয়েছিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে। রাজ্যে যেখানে অপরাধ দমনে পুলিশের সক্রিয়তা বাড়ছে, সেখানে এই ঘটনা পুলিশেরই ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বলে অভিভাবকদের অভিযোগ। 

Advertisement

এদিন পুরমন্ত্রীর কাছে এসে ক্ষোভ উগরে দেন পড়ুয়ার মা স্বেতা কুমারী। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের মৃত্যুর ৪০ দিন পার হয়ে গিয়েছে। এখনও তদন্তই শুরু করেনি পুলিশ। বিচার পাওয়া তো পরের কথা। সামার ক্যাম্পে সুইমিং শেখানোর কথা ছিল। অথচ, সে দিন ট্রেনারই আসেননি। সু‌ই঩মিং পুলে ডুবে থাকা ছেলেকে উদ্ধার করার পর তাকে সময় মতো হাসপাতালে নিয়ে যায়নি কেউই। জল থেকে তোলার পরও আমার ছেলে বেঁচে ছিল। এত বড় গাফিলতির পরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’ বিষয়টি শুনে রুষ্ট হন অগ্নিমিত্রা পাল। উচ্চ পদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সামনেই তিনি বলেন, ‘এটাতো সম্পূর্ণ অবহেলা। এটা তো একটা ক্রিমিনাল অফেন্স। বাচ্চা পড়ুয়ারা সুইমিং শিখবে, আর ট্রেনার থাকবে না?’ এরপরই পুলিশকে তিনি নির্দেশ দেন, ‘৪০ দিন হয়ে গেল। এবার গ্রেপ্তার করুন। এভাবে চলতে পারে না।’ 
জানা গিয়েছে, গ্রীষ্মের ছুটিতে স্কুলে সামার ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। সুইমিং পুলে সাঁতার শেখানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে নাম দিয়েছিল ১১ বছরে ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়াটিও। ২৮ মে তাকে সুইমিং পুলের জল থেকে নিথর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অভিভাবকরা স্কুলের সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অভিযোগ কোনো ট্রেনার না থাকার পাশাপাশি কোনো মেডিকেল ইউনিট ছিল না। এমনকী জলের ডোবা রোগীকে বুকে চাপ দিয়ে হৃদস্পন্দন চালু করার যে সহজ পদ্ধতি, সেটিও কারও জানা ছিল না। এই অবস্থায় অভিভাবকরাই তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তারপরই স্কুল কর্তৃপক্ষ, স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল, ট্রেনাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন মা স্বেতা কুমারী। 
অভিভাবদের আক্ষেপ, ৪০ দিন পার হয়ে গেলেও কোনো পুলিশি পদক্ষেপ নজরে পড়েনি। স্কুল স্বাভাবিক ভাবে চলছে, অধ্যক্ষ, অভিযুক্ত শিক্ষকরা স্কুলে আসছেন ক্লাস নিচ্ছেন। এমনকী, এখনও পর্যন্ত মামলায় তাঁদের বয়ানও পুলিশ রেকর্ড করেনি বলে অভিযোগ। এই নিষ্ক্রিয়তার জেরে তাঁরা আসানসোল উত্তরের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়, আসানসোল পুরসভার তৎকালীন বিরোধী নেত্রী চৈতালি তেওয়ারির কাছে গিয়েছেন। দু’জনেই সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তারপরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এরপর পুরসভায় এসে পুরমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ তুলে ধরেন বাবা, মা।  স্কুলের অধ্যক্ষ রবি ভিক্টর বলেন, ‘বিচারাধীন বিষয় নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না। আমাদের স্কুলে পড়ুয়াদের নিরাপত্তার সব রকম নজরদারি করা হয়।’ ডিসি ধ্রুব দাস বলেন, ‘মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ