


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুধু ফুটবল টেবিল টেনিস বা ভারোত্তোলনে নয়, বাংলার ছাত্রীরা চমক দেখাচ্ছে ভলিবলেও। ৪-১৩ ডিসেম্বর চীনের শাংলুংও শহরে আয়োজিত হতে চলেছে অনূর্ধ্ব ১৫ বছরের ওয়ার্ল্ড স্কুল ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপ। এই প্রতিযোগিতায় ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছে বাংলার চার ছাত্রী। ১৪ জনের দলে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার নবম শ্রেণির ছাত্রী অভিষিক্তা পাল, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী শরণ্যা ঘোষ, হুগলির সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী রূপকথা ঘোষ এবং অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সহেলি সামন্ত।
গত বছর জাতীয় স্কুল গেমসে অনূর্ধ্ব ১৪ বছরের ভলিবল প্রতিযোগিতায় বাংলা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ওই দলের ছ’জন খেলোয়াড় চীনের এই প্রতিযোগিতার জন্য প্রাথমিক বাছাই পর্বে উত্তীর্ণ হয়েছিল। তারমধ্যে চারজনই জায়গা পেয়েছে চূড়ান্ত দলে। বাকি দু’জন হল উত্তর ২৪ পরগনার আদ্রিকা দাস ও হুগলির পূজা রাজবংশী। ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে অনূর্ধ্ব পনেরোর জাতীয় ভলিবল দলের আবাসিক শিবির থেকেই ১৪ জনের দল নির্বাচন করা হয়।
২০১৭ সালে ‘খেল সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, খেলাকে বিদ্যালয় স্তরে নিয়ে যেতে হবে। তার জন্য পাঁচ বছর সময় লাগবে। এই পাঁচ বছরে বাংলায় বিদ্যালয় স্তরে অনেকটাই এগিয়েছে খেলাধুলো। জাতীয় স্কুল গেমসের র্যাঙ্কিংয়ে বাংলা উঠে এসেছে সপ্তম স্থানে। বর্তমানে ভলিবল, টেবিল টেনিস, ভারোত্তোলন, যোগাসন ইত্যাদি ক্ষেত্রে এগিয়ে বাংলা।
সহেলি সামন্ত হুগলি জেলার কৃষক পরিবারের সন্তান। রূপকথা ঘোষের বাবা একটি ছোট বেসরকারি সংস্থার কর্মচারী। অভিষিক্তার বাবার কাঁসা-পিতলের দোকান রয়েছে। শরণ্যার বাবা জীবনবিমার এজেন্ট। এরা কেউই সেই অর্থে স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান নয়। এই খেলোয়াড়রা প্রতিদিন পাঁচ-সাত ঘণ্টা কঠোর অনুশীলন করে। ইন্ডিয়া ক্যাম্পে থাকার কারণে তারা পড়ার সময় তেমন একটা পায় না বললেই চলে। তাই দাবি উঠেছে, সিবিএসই’র মতো এ রাজ্যেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে বিকল্প পরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হোক।