নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বারাসত: ৩৭ দিনের লড়াই শেষ হল। মারা গেলেন নিপা আক্রান্ত সেই তরুণী নার্স। পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দা ওই তরুণী বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ সেখানেই মৃত্যু হয়। রাজ্যে এই প্রথম নিপা আক্রান্তের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। আরেক আক্রান্ত পুরুষ নার্স অবশ্য কিছুদিন আগেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
সূত্রের খবর, ২৫ বছরের ওই তরুণী নার্স ১৫ ও ১৮ ডিসেম্বর ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া নদীয়ার একটি গ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান। কিছুদিন পর তার জ্বর আসে। অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন। প্রথমে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ এবং তারপর যে হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন, বারাসাতের সেই প্রাইভেট হাসপাতালে ভরতি হন।
চিকিৎসকরা জানান, নিপা সংক্রমণের জেরে তার মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছিল। দীর্ঘ হাসপাতালবাসের অধিকাংশ সময় ছিলেন ভেন্টিলেশনে। মাঝে সামান্য উন্নতি হওয়ার ভেন্টিলেশন থেকে বাইরে বের করে আনা হয়। কিন্তু, ফের অবস্থার অবনতি হয়। ভেন্টিলেশন অ্যাসোসিয়েটেড নিউমোনিয়া হয়। গত দুদিন ভেন্টিলেশনে যমে মানুষের লড়াই চলে। এরপর আজ বিকেলে মারা যান। ৮ ফেব্রুয়ারি তার একটি টেস্ট রিপোর্টে নিপা নেগেটিভ আসে। কিন্তু আদর্শ আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, নিপা আক্রান্ত রোগীকে নেগেটিভ ঘোষণা করার জন্য দুটি টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ আসার প্রয়োজন। সে কারণে করোনার মতোই যাবতীয় নিয়মাবলী মেনে দেহ তুলে দেওয়া হবে বাড়ির লোকজনের কাছে। জানিয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সমুদ্র সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, দ্বিতীয় টেস্ট করার আগেই এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনাটি ঘটল। তাই নিয়ম মতে, রোগিণীকে পজিটিভ ধরেই এগতে হবে। কোভিডের মতো প্রোটোকল মেনে দেহ বাড়ির লোকজনকে তুলে দেওয়া হচ্ছে।