নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও চুঁচুড়া: ২০২৩ সালে রিষড়ায় গোষ্ঠী সংঘাতের মামলার তদন্তে এবার ৩৬টি কার্তুজ উদ্ধারের দাবি পেশ করল এনআইএ। ওই কার্তুজগুলির ফরেন্সিক তদন্ত চেয়েছেন তদন্তকারীরা। বুধবার এনআইএ ওই মামলায় মূল অভিযুক্ত রিষড়া পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার সাকির আলিকে আদালতে পেশ করে। সেখানেই ধৃতের বাড়ি থেকে কার্তুজ উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন এনআইএ’র অফিসাররা। জানা গিয়েছে, ওই কার্তুজগুলি বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রে ব্যবহারযোগ্য। বুধবার আদালতে ধৃত সাকিরকে মূল অভিযুক্ত বলেই জোরালো সওয়াল করেছেন জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী। পালটা সাকির আলি দাবি করেছেন, গোষ্ঠী সংঘাত রুখতে কাউন্সিলার হিসাবে তাঁর এলাকায় যাওয়া উচিত ছিল, তাই তিনি গিয়েছিলেন।
এদিকে, মঙ্গলবার রিষড়ায় এনআইএ অভিযান চলাকালীন তদন্তে বাধা দেওয়া, পুলিশ কর্মীদের উপরে চড়াও হওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সাকিরের স্ত্রী তথা তৃণমূলের আরামবাগের প্রাক্তন সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার পুলিশ তাঁকে শ্রীরামপুর থানায় হাজিরা দেওয়ার নোটিস জারি করেছিল।
কিন্তু বুধবার রাত পর্যন্ত অপরূপা পুলিশের কাছে হাজিরা দেননি। জানা গিয়েছে, তিনি এনআইএ আদালতে স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। শ্রীরামপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, হাজিরা না দেওয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
অন্যদিকে, এনআইএ’র আইনজীবী এদিন আদালতে জানিয়েছেন, রামনবমীর মিছিল থেকে বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা নিতে পারে। মূলত, ওই ভাবনা থেকেই সাকির গোষ্ঠী সংঘাতের নীল-নকশা তৈরি করেছিলেন। ঘটনার দিন বোমাবাজি থেকে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছিল।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে রিষড়ার বড়ো মসজিদ এলাকায় গোষ্ঠী সংঘাত হয়েছিল। সেই ঘটনা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা হয়। তিন বছর পরে আদালতের নির্দেশে এনআইএ তদন্তের সুযোগ পায়। মঙ্গলবার রিষড়ায় অভিযান চালিয়ে কাউন্সিলার সাকির আলিকে এনআইএ গ্রেপ্তার করে। বুধবার তাঁকে আদালতে তুলে হেপাজতে নিয়েছে এনআইএ। অপরূপা পোদ্দার