সংবাদদাতা, বনগাঁ: গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বনগাঁর একটি বাড়িতে হানা দিয়ে ৩৫টি কচ্ছপকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করলেন বনদপ্তরের আধিকারিকরা। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্রাইম কন্ট্রোল ব্যুরো (ডব্লুবিসিসিবি) ও ওয়াইল্ড লাইফ (হেড কোয়ার্টার) যৌথ অভিযানে নেমে কচ্ছপগুলি উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি আটটি মৃত কচ্ছপও পাওয়া গিয়েছে। এই ঘটনায় এক মহিলা সহ ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কচ্ছপগুলি ইন্ডিয়ান সফট সেল টার্টেল প্রজাতির। উত্তর ২৪ পরগনা বনবিভাগ (নর্থ) সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই বনগাঁর সুভাষপল্লির একটি বাড়িতে কচ্ছপ বিক্রি করত অভিযুক্তরা। মঙ্গলবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেখানে হানা দেন বনদপ্তরের আধিকারিকরা। সেখানে তল্লাশির সময় কচ্ছপগুলি পাওয়া যায়।
দীর্ঘদিন ধরেই বনগাঁর বিভিন্ন বাজারে গোপনে কচ্ছপ বিক্রি হচ্ছে। এর আগেও বনদপ্তরের আধিকারিকরা বেশ কয়েকটি বাজারে হানা দিয়ে বহু কচ্ছপ উদ্ধার করেছেন। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল অবৈধ কারবারিদের। প্রশাসনের চোখে ধুলো দিতে তাই এই বেআইনি ব্যবসায় রদবদল আনে কারবারিরা। তারা কচ্ছপ সরাসরি বাজারে না এনে গোপন ডেরায় বসে বিক্রি করত। তাদের ‘এজেন্ট’ বাজার ঘুরে ঘুরে ক্রেতা জোগাড় করে ওই ডেরায় নিয়ে আসত। সূত্রের দাবি, বিশ্বস্ত লোক ছাড়া কোনও ক্রেতাকে অবশ্য গোপন ডেরা চেনানো হতো না। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, উত্তরপ্রদেশ থেকে গাড়িতে করে কচ্ছপ এনে বনগাঁ শহরের বাইরে মজুত করা হতো। সেখান থেকে বিভিন্ন বাজারে কিংবা কোনও গোপন জায়গায় অল্প অল্প করে কচ্ছপ পাঠানো হতো। সেগুলি বিক্রি হয়ে গেলে আবার সেখানে নিয়ে আসা হতো কচ্ছপ। এভাবেই বনগাঁর সুভাষপল্লি একটি বাড়িকে ডেরা বানিয়েছিল অবৈধ কারবারিরা। এ বিষয়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনদপ্তরের আধিকারিক অভিজিৎ কর বলেন, ‘বনগাঁর একটি বাড়ি থেকে ৩৫টি জীবিত ও আটটি মৃত কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় মহিলা সহ ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’-নিজস্ব চিত্র