সংবাদদাতা, মানিকচক: পুজোর আনন্দ ম্লান ভূতনিতে। বানভাসিদের দুর্দশা কোনোভাবেই কাটছে না। গত কয়েকদিন ধরে ভূতনির আলাদিয়ায় ফের ব্যাপক হারে ভাঙন চলছে। ফুলহার নদী একেবারে জনবসতি এলাকায় চলে এসেছে। ইতিমধ্যে বাঁধের তিনশো মিটার অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। একটি বাড়ি নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। দুর্গাপুজোর মুখে আতঙ্কে আলাদিয়ার বাসিন্দারা।
গত কয়েকদিনে আলাদিয়ার রিং বাঁধের প্রায় ৩০০ মিটার গ্রাস করেছে নদী। ক্রমশ গ্রামের দিকে এগচ্ছে নদী। রবিবার থেকে আরও ভয়ঙ্কর হয়েছে ফুলহার। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫০ মিটার এলাকা নদী গিলেছে। রতন ঘোষ নামে এক ব্যক্তির বাড়ি নদীগর্ভে। নদীর এই ভয়াবহ রূপ দেখে পুজোর আনন্দ ম্লান আলাদিয়ায়। পুজোর মধ্যেই কেউ নিজের বাড়ি ভাঙছেন। কেউ আবার এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন।
ভাঙন রোধে প্রশাসন বা সেচ দপ্তর কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। দেবব্রত ঘোষ বলেন, আলাদিয়ার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। যেভাবে নদী গ্রাম গিলতে শুরু করেছে, আগামীতে হয়তো আলাদিয়া গ্রামের চিহ্ন থাকবে না।
এলাকার বাসিন্দা দেবব্রতর আক্ষেপ, সেচদপ্তর বা প্রশাসনের কাউকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। হয়তো তারা পুজো নিয়ে ব্যস্ত।
মানিকচকের বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল বলেন, প্রকৃতির কাছে আমরা নিরুপায়। তা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের পাশে রয়েছি। তাদের সমস্ত ধরনের সাহায্য করা হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের কাজ হবে।



