নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: টানা ৯ দিন অপহৃত থাকার পর অবশেষে মায়ের কোলে ফিরল তিন বছরের শিশু। হাওড়া স্টেশন থেকে অপহরণ করে তাকে পাচার করা হয়েছিল রাজস্থান। এই ঘটনায় আগেই দুই মহিলা গ্রেপ্তার হয়েছিল। এবার রাজস্থান থেকে ধরা হল চক্রের অন্যতম মূল চাঁইকে। দুধের শিশুটিকে সোওয়াই মাধোপুর জেলার আদালওয়াড়ার একটি গোপন ডেরায় লুকিয়ে রেখেছিল দুষ্কৃতীরা। ঘটনার শুরু পাঁচ মার্চ। তারপর প্রায় ৯ দিন ধরে রোমহর্ষক উদ্ধারপর্ব।
চার মার্চ সাত ও তিনবছরের দুই মেয়েকে নিয়ে হুগলিতে বাপের বাড়ি গিয়েছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার লক্ষ্মীকান্তপুরের এক মহিলা। রাতে বাড়ি ফেরার বাস ধরতে হাওড়া স্টেশন আসেন। ততক্ষণে শেষ বাসটি বেরিয়ে গিয়েছে। নিরুপায় হয়ে দু’কন্যাকে নিয়ে স্টেশনের ওল্ড কমপ্লেক্সে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন। বসে থাকাকালীন অচেনা এক মহিলা এসে যেচে আলাপ করেন। পরে পুলিস জানতে পারে তার নাম শাহনারা বেগম, বাড়ি উলুবেড়িয়া। এদিকে গল্প করে সে রাত গড়ায়। ভোরের দিকে সবাই তন্দ্রাচ্ছন্ন। অভিযোগ, ঘুমে আচ্ছন্ন থাকার সুযোগ নিয়ে শাহনারা তিন বছরের ছোট মেয়েকে নিয়ে পালিয়েছে। বড় মেয়েকে নিয়ে মহিলা অভিযোগ জানাতে যান হাওড়ার আরপিএফে। আরপিএফ অভিযোগ নেয়। তারপর তদন্তভার গ্রহণ করে জিআরপি। অপহৃতের আবছা বর্ণনা ছাড়া পুলিসকে বিশেষ কিছুই জানাতে পারেননি মহিলা। ফলে ভরসা হয়ে দাঁড়ায় শুধুমাত্র সিসিটিভি’র ফুটেজ। শুরু হয় তদন্ত।
স্টেশন সর্বদা লক্ষ মানুষের ভিড়ে থইথই থাকে। তার মধ্যে অপহরণকারীকে খোঁজা প্রায় খড়ের গাদায় সূচ খোঁজার মতো দুষ্কর। অগত্যা সেই পথেই হাঁটা শুরু করেন তদন্তকারীরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফুটেজের বিশ্লেষণ চলে। হাওড়া স্টেশন, বিচালি ঘাট, সাঁকরাইল স্টেশন, হুগলির ফুলেশ্বর স্টেশন, উলুবেড়িয়া সহ বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অবশেষে খোঁজ মেলে অপহরণকারীর। তারপর ১১ মার্চ রাতে উলুবেড়িয়া থানা এলাকায় শাহনারাকে ধরতে অভিযান। অভিযান সফল। গ্রেপ্তার। জেরা পর্ব চলে। শাহনারা ভেঙে পড়ে জানান, বাউরিয়া থানা এলাকার মাহফুজা বিবি এই কাজে যুক্ত। এবার তাঁকে ধরতেও হানা। গ্রেপ্তার মাহফুজাও। লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদে দুই মহিলা জানান, রাজস্থানের জয়পুরে সোরাজ কানজার নামে এক ব্যক্তির কাছে বাচ্চাটিকে পাচার করা হয়েছে। আর সোওয়াই মাধোপুর জেলার আদালওয়াড়ার গোপন ডেরায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে।
একমুহূর্তও দেরি করেনি পুলিস। শিশুর মাকে নিয়ে রাজস্থান রওনা জিআরপি’র সাত সদস্যের একটি বিশেষ দলের। রাজস্থান পুলিসের সহযোগিতায় আদালওয়াড়ার গোপন ডেরায় গোপন অভিযান। শুক্রবার রাতেই উদ্ধার শিশু। সে সুস্থ। আশ্বস্ত মা। স্বস্তির শ্বাস তদন্তকারীদের। জিআরপি’র এক আধিকারিক বলেন, ‘অবশেষে শিশুটিকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি। পাচারচক্রের অন্যতম মূল মাথা সোরাজকেও জালে আনা সম্ভব হয়েছে। ট্রানজিট রিমান্ডে রাজস্থান থেকে আনা হচ্ছে সোরাজকে।’