Bartaman Logo
৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তৃণমূল নেতা রাজ্জাক খুনে ধৃত আরও ৩, প্রভাবশালী যোগ খতিয়ে দেখছে পুলিস

রাতের অন্ধকারে ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা রাজ্জাক খানের নৃশংস খুনের ঘটনায় রবিবার গভীর রাতে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করল উত্তর কাশীপুর থানার পুলিস।

তৃণমূল নেতা রাজ্জাক খুনে ধৃত আরও ৩,  প্রভাবশালী যোগ খতিয়ে দেখছে পুলিস
  • ১৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা  ও  কলকাতা: রাতের অন্ধকারে ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা রাজ্জাক খানের নৃশংস খুনের ঘটনায় রবিবার গভীর রাতে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করল উত্তর কাশীপুর থানার পুলিস। ধৃতরা হল, আজহারউদ্দিন মোল্লা (২৫), জাহান আলি খান ওরফে কাঙাল (৫০) এবং রাজু মোল্লা (২৬)। কলকাতা পুলিসের ভারপ্রান্ত গোয়েন্দা রূপেশ কুমার এই খবর জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, ধৃতদের মধ্যে আজাহারউদ্দিন এলাকায় তৃণমূল কর্মী বলেই পরিচিত। 

Advertisement

এনিয়ে এই খুনের মামলায় মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করল  পুলিস। কলকাতা পুলিসের এক সূত্র জানাচ্ছে, এই খুনের মামলাতে পলাতক আরও কয়েকজনকে খোঁজা হচ্ছে। খুনের সময় ঘটনাস্থলে তাদের উপস্থিতি ছিল বলেই তদন্তে উঠে আসছে। পুলিসের দাবি, ‘ধৃত এই চারজনের মধ্যে  মোফাজ্জেল মোল্লা এবং আজহারউদ্দিন মোল্লা এই নৃশংস খুনের পরিকল্পনা করেছিল। জাহান আলি খান ওরফে কাঙাল খুনের রাতে পার্টি অফিসের  কাছে উপস্থিত থেকে আততায়ীদের দলটিকে রাজ্জাকের গতিবিধি সংক্রান্ত তথ্য বা টিপস দেয়। পাশাপাশি রাজু এবং আজাহার হল শার্প শুটার। তারা  গুলি চালিয়ে, ধারাল অস্ত্রের সাহায্যে এই খুন করেছে বলে অভিযোগ পুলিসের।’ 
তবে শাসক দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠছে, মোফাজ্জেল মোল্লা এবং আজহারউদ্দিন মোল্লার মতো ভাঙড়ের ছোটখাট তৃণমূল কর্মীর মাথায় প্রভাবশালী কারও হাত না থাকলে, এমন খুন করা আদৌও সম্ভব কি?  তবে কি কেউ তাদের এই খুনের সুপারি দিয়েছিল? তদন্তে সব দিক খতিয়ে দেখছে লালবাজার। 
বৃহস্পতিবার রাতে দশটা নাগাদ পার্টি অফিস থেকে  বাড়ি ফেরার পথে বিজয়গঞ্জ বাজারের কাছে গুলি চালিয়ে এবং কুপিয়ে খুন করা হয়  ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের তৃণমূলের সভাপতি রাজ্জাক খানকে। রীতিমতো নিখুঁত পরিকল্পনা করে খুন করা হয়েছে তাঁকে। ময়না তদন্তের রিপোর্টের তথ্য অনুসারে, রাজ্জাকের বুকে, মাথায়, মুখমন্ড‌঩লে মোট পাঁচটি গুলি করা হয়েছে। পাশাপাশি মৃত্যু নিশ্চিত করতে ঘাড়ে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে।  এদিকে, ধৃত এই তিনজনকে সোমবার দুপুরে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে  হাজির করানো হলে, আদালত তাদের পুলিস হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করতে চায় তদন্তকারীরা। 

সম্পর্কিত সংবাদ