Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়খণ্ডে গাড়ি দুর্ঘটনায় মা-ছেলে সহ কাঁথির একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

গয়ায় পিণ্ডদান সেরে ফেরার সময় ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরে প্রাইভেট গাড়ি দুর্ঘটনায় কাঁথির জুনপুট কোস্টাল থানার  দেশদত্তবাড় গ্রামের একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

ঝাড়খণ্ডে গাড়ি দুর্ঘটনায় মা-ছেলে সহ কাঁথির একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: গয়ায় পিণ্ডদান সেরে ফেরার সময় ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরে প্রাইভেট গাড়ি দুর্ঘটনায় কাঁথির জুনপুট কোস্টাল থানার  দেশদত্তবাড় গ্রামের একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার জামশেদপুরের সেরাইকেলা জেলার ইচ্ছাগড়ের কাছে টাটা-রাঁচি ৩৩নম্বর জাতীয় সড়কে ঘটনাটি ঘটে। পুজোর মুখে মর্মান্তিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশদত্তবাড় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রিয়জনদের বিষাদ আর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে গোটা গ্রাম। মৃতরা হলেন সুরজিৎ প্রধান(৪১)। তাঁর মা বসুমতি প্রধান(৫৮) ও কাকা সত্যব্রত প্রধান(৬৫)। সুরজিৎ গাড়ি চালাচ্ছিলেন। এই ঘটনায় জখম হয়েছেন সুরজিতের বাবা দেবব্রত প্রধান, কাকিমা উমা প্রধান ও কাকার ছেলে মনোজ প্রধান। তাঁরা বর্তমানে সেখানকার একটি হাসপাতালে আইসিইউতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। সুরজিৎ সংশ্লিষ্ট জুনপুট কোস্টাল থানার পুলিশের গাড়ি চালাতেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সুরজিৎ নিজেরই প্রাইভেট গাড়িতে করে পরিবারের আরও পাঁচজন সদস্যকে নিয়ে দেশদত্তবাড় থেকে গয়ার উদ্দেশে রওনা হন। তাঁরা গয়ায় পূর্বপুরুষদের পিণ্ডদান ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের কাজ সম্পন্ন করার পর অযোধ্যার রামমন্দির, বেনারস সহ নানা দর্শনীয় স্থানে যান। বৃহস্পতিবার বাড়ি ফিরছিলেন। সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ সেরাইকেলা জেলার ইচ্ছাগড়ের চাণ্ডিল এলাকার কাছে জাতীয় সড়কে ঘটনাটি ঘটে। সেখানকার একটি হোটেলের সামনে তীব্রগতিতে থাকা প্রাইভেট গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি কন্টেনারের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। এতে প্রাইভেট গাড়িটি ভয়ঙ্করভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চালক সুরজিতের। সারারাত গাড়ি চালানোর পর সকালের দিকে সম্ভবত সুরজিতের ঘুম এসে যাওয়ায় ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় মানুষজন দৌড়ে আসেন। আসে স্থানীয় থানার পুলিশও। রীতিমতো গ্যাস কাটার দিয়ে মৃত ও জখমদের  উদ্ধার করা হয়। এরপর তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে জখমদের  জামশেদপুর হাসপাতাল রেফার করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার ভোরে সুরজিতের মা ও কাকার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ও প্রতিবেশীরা বৃহস্পতিবার বেলার দিকে জামশেদপুরের উদ্দেশে রওনা হন। শুক্রবার রাতের দিকে সেখান থেকে দেহগুলি নিয়ে আসা হয়। পঞ্চায়েত সমিতির স্থানীয় সদস্য আমিন সোহেল ও পঞ্চায়েত সদস্য বিদ্যাধর কামিলা বলেন, খুবই বেদনাদায়ক ঘটনা। আমরা পরিবারের লোকজনকে সমবেদনা জানিয়েছি। কাঁথির এসডিপিও দিবাকর দাস বলেন, ঝাড়খণ্ডে একটি দুর্ঘটনায় আমরা তিনজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। দেহগুলি নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ