নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বাড়ির বাইরে দাঁড়ালে মনে হবে, কোনও ধনীর অট্টালিকা। ভিতরেও অত্যাধুনিক নানা ব্যবস্থা। তবে মালিক থাকে কমই। তার পেশাও কেউ ঠিকমতো জানে না। আদতে চুরি, পকেট মারি, হাত সাফাইয়ের টাকা দিয়ে এমনই তিনটি বিলাসবহুল বাড়ি করেছে ধৃত রাবিয়া বিবি। মহিলাকে গ্রেপ্তারের পর তদন্তে এমনটাই জানতে পেরেছে সোনারপুর থানার পুলিশ।
জানা গিয়েছে, তিনটির বাড়ি মধ্যে একটি রয়েছে বারুইপুরের সীতাকুণ্ডতে। বাকি দু’টি মহেশতলা ও খড়দহে। রাবিয়াকে জেরা করে তাদের নির্দিষ্ট ঠিকানা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে তার সহযোগীর কাছে পুলিস জেনেছে, ওই দু’টি বাড়ি অনেক টাকা খরচ করে তৈরি করা হয়। দুই ২৪ পরগনার পুলিশের কাছেই তার নামে বছরের পর বছর অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বিপাকে পড়লে সে বাড়ি বদলে বদলে লুকিয়ে থাকত। তবে গ্রেপ্তারির পর বহু ক্ষেত্রে রাবিয়া তদন্তে অসহযোগিতা করছে বলে জানা গিয়েছে। বারুইপুরের বাড়িতে এলাহি ব্যবস্থা রয়েছে বলে প্রতিবেশীরা দাবি করেছেন। বাইরে রয়েছে সিসিটিভি, ভিতরে এসি, মার্বেলের মেঝে প্রভৃতি। পুলিশ জানিয়েছে, রাবিয়া কারও থেকে ১০ হাজার, কখনও ব্যাগ কেটে পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দিত। সেই টাকা দিয়েই এত বাড়ি করেছে। ছোটবেলা থেকে অন্ধকার জগতে ঢুকে পড়ায় বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই রাবিয়ার। তার এক দিদির খোঁজ পেয়েছে পুলিশ। তিনি তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, বোনের অপরাধ করার মানসিকতার জন্য ওর সঙ্গে অনেক আগেই সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে। পুলিস জেনেছে, রাবিয়া বিয়ে করেনি। কোনও অভাব থেকেও চুরির পথ সে বেছে নিয়েছে তা নয়। সহজ উপায়ে টাকা কামানোর জন্যই একের পর এক অপারেশন চালাত রাবিয়া। দুই জেলার বিভিন্ন ট্রেনের রুট ছিল তার নখদর্পণে। এদিকে, প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, রাবিয়া বারুইপুরের বাড়িতে যখন আসত, তখন তার মুখ ঢাকা থাকত।