Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শেয়ারে বিনিয়োগের নামে সাড়ে ৪৭ লাখের প্রতারণা, সুরাত থেকে ধৃত ৩

শেয়ার বাজারে লগ্নি করার নামে এক জনের  সঙ্গে সাড়ে ৪৭ লক্ষ টাকা প্রতারণা করার অভিযোগে তিনজনকে গুজরাতের সুরাত থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছে সিআইডি।

শেয়ারে বিনিয়োগের নামে সাড়ে ৪৭ লাখের প্রতারণা, সুরাত থেকে ধৃত ৩
  • ২২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: শেয়ার বাজারে লগ্নি করার নামে এক জনের  সঙ্গে সাড়ে ৪৭ লক্ষ টাকা প্রতারণা করার অভিযোগে তিনজনকে গুজরাতের সুরাত থেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছে সিআইডি। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম সরদারা চন্দ্রেশ রাঘবভাই, শচীন দিলীপভাই রাফালিয়া, রাবরী তুষার ধীরুভাই। এদিন শিলিগুড়ি আদালতে তুলে ধৃতদের ১৪ দিনের জন্য হেফাজতে নিয়েছে সিআইডি। 

Advertisement

অভিযোগ, শিলিগুড়ির রাজেশ জয়সওয়াল ২০২৪ সালে ওই প্রতারকদের পাল্লায় পড়েন। তাঁকে জানানো হয়, দফায় দফায় শেয়ার বাজারে মোটা টাকা লগ্নি করলে প্রচুর মুনাফা অর্জন সম্ভব। সোশ্যাল মিডিয়ার একটি গ্রুপে তাঁকে যুক্ত করা হয়। যেখানে নিজেদের মুম্বইয়ের শেয়ার বাজারের বিশেষজ্ঞ বলে পরিচয় দেওয়া বেশকিছু ব্যক্তি আগে থেকেই ছিল। এরপরই বিশ্বাস করে ফেলেন রাজেশ। তিনি ধাপে ধাপে ৪৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা লগ্নি করে ফেলেন। 
রাজেশের আইনজীবী সুকান্ত নাগ এবং অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তাঁকে জানানো হয় যে লগ্নি করা অর্থের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় দু’কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এরপরই নিজের অর্থ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা তোলার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন রাজেশ। বিষয়টি গ্রুপে জানানোর পরেই প্রতারকরা দাবি করে, প্রসেসিং ফি হিসেবে আরও দেড় লক্ষ টাকা দিতে হবে। এবার এই টাকা দিতে রাজি হননি রাজেশ। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যে অর্থ তিনি পাবেন, সেখান থেকে কেটে নিতে। যদিও প্রতারকরা তা মানতে চায়নি। এরপরই আচমকা সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় প্রতারক দল। 
বিষয়টি নিয়ে এপ্রিল মাসেই শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেন রাজেশ। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে দিল্লি থেকে পরমজিৎ সিং বলে একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছিল বলে জানা যায়। যদিও পরবর্তীতে তিনি জামিন পান। জামিন হওয়ার পরেই বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে যান রাজেশবাবু। সেখান থেকে তদন্তের ভার দেওয়া হয় সিআইডিকে। এরপরই ঘটনার তদন্ত শুরু করে তারা রবিবার গুজরাতের সুরাত থেকে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে। যদিও তাদের হেফাজত থেকে কোনও অর্থ পাওয়া যায়নি। ঘটনায় আর কারা জড়িত, খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে সিআইডি। 
রাজেশের আইনজীবীরা বলেন, আমাদের মক্কেলের সঙ্গে বড় আর্থিক প্রতারণা করেছিল একটি চক্র। পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে সিআইডি ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে এবং তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের ১৪ দিনের জন্য হেফাজতে নিয়েছে সিআইডি। আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি সব সত্যি সামনে আসবে। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ