Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

২৮ ঘণ্টার সফর, স্পেস স্টেশনে শুভাংশু

পরপর ক্যামেরার ফ্ল্যাশের ঝলকানি। সঙ্গে তুমুল হাততালি। সাদা সরু অলিন্দ বেয়ে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে প্রবেশ করলেন অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশনের কমান্ডার পেগি হুইটসন।

২৮ ঘণ্টার সফর, স্পেস স্টেশনে শুভাংশু
  • ২৭ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

আর্ন্তজাতিক স্পেস স্টেশন: পরপর ক্যামেরার ফ্ল্যাশের ঝলকানি। সঙ্গে তুমুল হাততালি। সাদা সরু অলিন্দ বেয়ে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে প্রবেশ করলেন অ্যাক্সিয়ম-৪ মিশনের কমান্ডার পেগি হুইটসন। গেটের সামনেই তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন নিকোলা আয়ার্স। ‘এক্সপিডিশন-৭৩’-এর মহাকাশচারী আগে থেকেই স্পেস স্টেশনে রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যরাও একে একে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানালেন পেগিকে। ততক্ষণে প্রথম ভারতীয় হিসেবে স্পেস স্টেশনে পা রেখেছেন শুভাংশু শুক্লা। কাঁধে ভারতের জাতীয় পতাকা। একই রকম অভ্যর্থনা জানানো হল তাঁকেও। ঐতিহাসিক মুহূর্তের ছবি তুলে রাখলেন বাকিরা। ‘ড্রাগনে’র অন্য দুই মহাকাশচারী স্লাওস উজানানস্কি ও টিবর কাপুকেও স্বাগত জানানো হল। হাতে তুলে দেওয়া হল বিশেষ লিকুইডের পাউচ। বেশ কিছুক্ষণ শূন্যে ভেসে থাকার মজাও নিতে দেখা গেল শুভাংশুকে। আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে আগত ৬৩৪ নম্বর মহাকাশচারী তিনি। সেকথা তখনই আনুষ্ঠানিকভাবে জানান মিশন কমান্ডার পেগি।

Advertisement

ঠিক সময়েই গন্তব্যে পৌঁছে গিয়েছিল ড্রাগন। তবে ডকিংয়ের পরও যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষের জন্য অপেক্ষা করতে হয় আরও দু’ঘণ্টা। রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার পর অবশেষে স্পেস স্টেশনে পৌঁছলেন অ্যাক্সিয়ম-৪ অভিযানের চার মহাকাশচারীই। পৃথিবী থেকে মাত্র ৪২৫ কিলোমিটার দূরত্বে এসেছেন তাঁরা। কিন্তু সেখানে পৌঁছনোর যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিল না। আমেরিকার ফ্লোরিডা থেকে অভিযান শুরু হয়েছিল ৩০ ঘণ্টারও বেশি আগে। বুধবার ভারতীয় সময় বেলা ১২ টা ০১ মিনিটে। ফ্লোরিডায় তখন রাত ২টো ৩১। কেনেডি স্পেস সেন্টারের ৩৯-এ লঞ্চ কমপ্লেক্স থেকে ড্রাগনকে নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল ফ্যালকন-৯ রকেট। ৫৫ বছর আগে এখান থেকেই উৎক্ষেপণ হয়েছিল অ্যাপোলো-১১। সেই যানে চেপেই প্রথমবার চন্দ্রবিজয় নীল আর্মস্ট্রং, এডউইন অলড্রিনদের। 
বুধবার উৎক্ষেপণের মিনিট দশেকের মধ্যেই ড্রাগনকে নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছে দিয়ে ফিরে আসে ফ্যালকন-৯। তারপর ২৮ ঘণ্টা ধরে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেছে ড্রাগন। ধাপে ধাপে কমিয়ে এনেছে দূরত্ব। এবং শেষপর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে স্পেস স্টেশনের কক্ষপথে। দীর্ঘ যাত্রায় বেশ কয়েকবার ভিডিও বার্তাও দিয়েছেন শুভাংশুরা।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টে (ভারতীয় সময়)। ড্রাগন ও স্পেস স্টেশনের দূরত্ব মাত্র ২০ মিটার। একটু একটু করে কমছে দূরত্ব। ডকিংয়ের চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হল স্পেস স্টেশন থেকে। বিকেল ৪টে ১ মিনিট (ফ্লোরিডায় সকাল ৬টা ৩১ মিনিট) অটোমেটিক ডকিং প্রক্রিয়া শুরু করল ড্রাগন। ‘সফট ক্যাপচার’ কনফার্ম করা হয় মিশন কন্ট্রোলের পক্ষ থেকে। মহাকাশযানটির কাইনেটিক এনার্জি বা গতিশক্তি শোষণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিকেল ৪টে ১৫ মিনিটে নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয় ‘হার্ড ক্যাপচার’-এর মাধ্যমে ডকিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ড্রাগনের ‘নোজ’ বা একদম সামনে থাকা ১২টি হুক এখন স্পেস স্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত। স্পেস স্টেশন থেকে কর্ডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হয়েছে। রেডিও বার্তা আসে, ‘আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে আপনাদের স্বাগত।’ 
স্পেস স্টেশনে পৌঁছে দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা দেন শুভাংশু। বলেন, ‘এখানে দাঁড়িয়ে থাকা আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও আদতে বেশ  মুশকিলের। মাথাটা ভারী লাগছে। তবে কিছুদিনের মধ্যেই এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারব। আগামী ১৪ দিন এখানেই থাকব। এটা গোটা দেশের মহাকাশ অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমার কাঁধে তিরঙ্গা রয়েছে। আমার মতো নিশ্চয়ই আপনারাও উচ্ছ্বসিত। জয় হিন্দ! জয় ভারত!’

সম্পর্কিত সংবাদ