নবাবগঞ্জের ভট্টাচার্য বাড়ির পুজোর ২৭৯ বছর, অষ্টমীতে মা দুর্গার সঙ্গে ৬৪ যোগিনীর আরাধনা
  • ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: ইছাপুর নবাবগঞ্জের ভট্টাচার্য বাড়ির পুজোয় অষ্টমীতে মা দুর্গার সঙ্গে পুজো হয় ৬৪ যোগিনীর। এই পুজো এবার ২৭৯ বছর পা দিল। তন্ত্র মতে পুজো হয় এখানে। অষ্টমীতে ৬৪ যোগিনীকে অড়হর ডালের খিচুড়ি, নানা রকম ভাজা, পোস্ত, শুকতো সহ একাধিক পদের তরকারি, পায়েস ইত্যাদি ভোগ হিসাবে দেওয়া হয়। তবে এই ভোগ বাইরে যায় না। বাড়ির বিধবা মহিলারাই একমাত্র ভোগপ্রসাদ খাওয়ার অধিকারী। বছরের পর বছর এই নিয়ম মেনেই পুজো হয়ে আসছে ভট্টাচার্য বাড়িতে।

Advertisement

শুক্রবারই প্রতিমা এসে গিয়েছে বাড়িতে। এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, বেলতলায় থাকা শিবলিঙ্গকে প্রথমে মা দুর্গারূপে পুজো করা হয়। চণ্ডীপাঠের পর দ্বিতীয়া থেকে মায়ের পুজো শুরু হয়। এই পরিবারের পূর্বপুরুষ রামচন্দ্র তর্কালঙ্কার বেলগাছের তলায় থাকা শিবলিঙ্গকে মা দুর্গারূপে স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই থেকেই তাঁদের বিশ্বাস, শিবলিঙ্গের মধ্যেই মা আছেন। মা দুর্গাকে এই বাড়িতে মেয়ে রূপে পুজো করা হয়।
গঙ্গার তীরে নবাবগঞ্জে ভট্টাচার্য পরিবারে পুজো শুরু করেন রামচন্দ্র তর্কালঙ্কার। ১৭৪৭ সাল। মেদিনীপুর থেকে টোল খুলতে নবাবগঞ্জে আসেন পণ্ডিতমশাই। নতুন জায়গা, ধীরে ধীরে জমে ওঠে টোল। একদিকে টোলের জনপ্রিয়তা বাড়ে, অন্যদিকে শিক্ষক হিসাবে প্রভাব বাড়ে তর্কালঙ্কারের। তিনি জমিদার বাড়িতে পড়াতেন। হয়ত সেই সময়েই ভট্টাচার্যদের জমিতে দুর্গাপুজোর সূচনা। হোগলার অস্থায়ী ঘরে হয় প্রথম পুজো। পরে মজবুত ভিতের উপর তৈরি হয় পাকা ঘর। এভাবেই ১৩ প্রজন্ম কেটে গিয়েছে ভট্টাচার্যদের। সোনার গয়নায় সেজে ওঠেন উমা। সপ্তমী থেকে নবমী— অন্নভোগের পাশাপাশি তিনদিনই পাঁঠা বলি হয়। দশমীতে হয় ফল বলি, মাকে দেওয়া হয় পান্তা ভোগ।
এই পরিবারের সদস্য পিনাকী ভট্টাচার্য বলেন, ২৯ শরিক মিলে আমরা পুজো করি।  বেলতলায় শিবলিঙ্গকে পুজো করা হয় যখন, তখন পুরোহিত ছাড়া আমরা কেউ যাই না। বংশ পরম্পরায় এই নিয়ম চলে আসছে। তারপর ঠাকুরদালানে মায়ের পুজো শুরু হয়। মাকে দিনে দু’বার অন্ন ভোগ দেওয়া হয়। খিচুড়ি, সাদা ভাত, পাঁচ রকম ভাজা, তরকারি, চাটনি, মিষ্টান্ন। আমরা ব্রাহ্মণ হলেও আমাদের পুজো করার নিয়ম নেই। পুরোহিত এসে পুজো করেন।  নিজস্ব চিত্র