সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগরের তিন তরুণ মৃৎশিল্পীর তৈরি ২৭ ইঞ্চির একটি দুর্গা প্রতিমা আগামী সোমবার দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। আকারে ছোট হলেও প্রতিমার গঠন, সূক্ষ্ম কারুকার্যের জন্য প্রতিমাটি ইতিমধ্যেই শিল্পমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই প্রতিমার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, একই শিল্পকর্মে ফুটে উঠেছে কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পের বৈশিষ্ট্য, শান্তিপুরের সাজশৈলী এবং প্রায় হারিয়ে যেতে বসা কৃষ্ণনগরের পটশিল্প। বাংলার তিনটি ঐতিহ্যবাহী শিল্পধারাকে একসঙ্গে তুলে ধরার এই উদ্যোগ শিল্পপ্রেমীদের মন কেড়েছে।
প্রতিমাটির নির্মাতা কৃষ্ণনগরের তরুণ প্রতিভাবান মৃৎশিল্পী বিশ্বজিৎ পাল। প্রতিমার সাজসজ্জার দায়িত্ব সামলেছেন প্রিয়াংশু দাস এবং চালচিত্র এঁকেছেন শুভময় চট্টোপাধ্যায়। তিনজনেরই বয়স কুড়ির কোঠায়। শিল্পীদের কথায়, প্রতিমা তৈরি করতে প্রায় এক মাস সময় লেগেছে। অত্যন্ত ধৈর্য, নিষ্ঠা ও যত্নের সঙ্গে কাজ করা হয়েছে। প্রতিমার মুখের গঠনে কৃষ্ণনগরের সুপরিচিত মৃৎশিল্পের সূক্ষ্মতা স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। ছোটবেলা থেকেই কৃষ্ণনগরের শিল্পচর্চার পরিবেশে বেড়ে ওঠায় বিশ্বজিৎ পাল সেই ঐতিহ্যকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।
অন্যদিকে, সাজশিল্পী প্রিয়াংশু দাসের জন্ম শান্তিপুরে। বর্তমানে কৃষ্ণনগরে থাকলেও তাঁর শিল্পচর্চায় শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী সাজের ছাপ স্পষ্ট। তাই প্রতিমার অলঙ্করণে শান্তিপুরের শিল্পরীতি ফুটে উঠেছে। কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্প এবং শান্তিপুরের সাজশৈলীর এই অনন্য সমন্বয় প্রতিমাটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র পরিচয়।শুভময় চট্টোপাধ্যায়ের তুলির টানে প্রতিমার চালচিত্রে জীবন্ত হয়ে উঠেছে কৃষ্ণনগরের হারিয়ে যেতে বসা পটচিত্র। পৌরাণিক ভাবনার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী রং ও রেখার ব্যবহারে চালচিত্রটি প্রতিমার সৌন্দর্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
প্রিয়াংশু দাস বলেন, শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী সাজশৈলীকে কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পের সঙ্গে মিলিয়ে একটি ভিন্নধর্মী উপস্থাপনা করার চেষ্টা করেছি। পুরনো ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে নতুন কিছু সৃষ্টি করার ইচ্ছাই আমাদের কাজের অনুপ্রেরণা। মৃৎশিল্পী বিশ্বজিৎ পাল বলেন, কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্প শুধু আমাদের পেশা নয়, আমাদের গর্ব ও পরিচয়। এই ছোট্ট দুর্গা প্রতিমার মাধ্যমে আমরা সেই ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।চালচিত্র শিল্পী শুভময় বলেন, চালচিত্র প্রতিমার সৌন্দর্যকে পূর্ণতা দেয়, তাই প্রতিটি তুলির টান খুব যত্ন নিয়ে দিয়েছি।