


নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: কেউ বাগান পরিচর্যার কাজে, কেউ রাজমিস্ত্রি বা ঠিকা শ্রমিক হয়ে আরব দুনিয়ায় গিয়েছেন। আবার অনেকে পণ্য লোডিং-আনলোডিং, গাড়ি চালানো, তেল শোধনাগারে কাজ করে বাড়িতে টাকা পাঠান। কিন্তু, মধ্যপ্রাচ্যে এখন যুদ্ধের আগুন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ২৬জন পরিযায়ী শ্রমিক সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও কুয়েতে আটকে রয়েছেন। ফলে দুশ্চিন্তায় তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ঘুম উবেছে। একবেলা ফোন না এলেই উৎকণ্ঠায় ভুগছেন পরিবারের লোকজন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের হত্যার বদলা নিতে ওই দেশ ভয়ঙ্কর প্রত্যাঘাত করছে। ইজরায়েলের পাশাপাশি ইরাক, কুয়েত, জর্ডন, বাহরিন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব, এমনকি ওমানেও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ছে। সেইসঙ্গে ড্রোন হামলা তো রয়েছেই। প্রতিটি দেশেই ভারতীয়রা আছেন।
কুয়েতে গাড়ি চালান কান্দির বাঘ আছড়া গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজ শেখ। বাড়ি ফেরার তিনি আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। ফিরোজের পরিবারের সদস্যরা জানান, ফোনে যোগাযোগ থাকলেও তিনি বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত তাঁরা স্বস্তি পাচ্ছেন না।
বহরমপুরের বাজারপাড়ার বাসিন্দা জাফর শেখ দুবাইয়ে কর্মরত। তিনি বলেন, এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে, তা আমরা কেউ ভাবতেও পারিনি। মাসখানেক আগেই আমার বেশ কয়েকজন সহকর্মী মুর্শিদাবাদে ফিরে গিয়েছেন। আমারও ফেরার সুযোগ ছিল। কিন্তু, যেতে পারিনি। জাফরের পরিবারের এক মহিলা বলেন, তাঁর পাঠানো টাকাতেই সংসার চলে। এখন প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ওই দেশে রয়েছে। সরকারের কাছে সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিককে উদ্ধারের আবেদন জানাচ্ছি।
বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারী দেশ সৌদি আরব। দেশটির পূর্ব সীমান্তে পারস্য উপসাগর বরাবর বেশিরভাগ তৈলক্ষেত্র রয়েছে। যার অপর প্রান্তেই ইরান। ফলে সহজেই ইরান ওই সমস্ত তৈলক্ষেত্রকে নিশানা করতে পারছে। এসপ্তাহের শুরুতে ড্রোন হামলার পরই আরামকো তরল পেট্রলিয়াম গ্যাস রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল। এবার রাস তানুরা শহরে সৌদি আরবের বৃহত্তম তেল শোধনাগারে ফের ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়েছে। সৌদির রাজধানী রিয়াধেই শ্রমিকের কাজ করছেন রানিনগরের মসিহুর রহমান। ভয়াবহ ড্রোন হামলা হয়েছে সেখানে। কী করে প্রাণ নিয়ে দেশে ফিরবেন, তা ভেবে পাচ্ছেন না তিনি। মসিহুর বলেন, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। এই পরিস্থিতিতে সমস্ত আতঙ্কের কথা বলতেও চাইছি না। ভালোভাবে দেশে ফিরতে পারলে বাঁচি।
বহরমপুরের হিকমপুরের হাসিবুল শেখও রিয়াধে আটকে আছেন। সেখানে তেল উৎপাদনকারী সংস্থায় লোডিং-আনলোডিংয়ের কাজ করেন বহরমপুরের আশারুল শেখ। তাঁরা সবাই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। হাসিবুলের পরিবারের দাবি, অনেকদিন ধরেই তিনি দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন। কিন্তু নানা সমস্যায় ফিরতে পারছেন না। এবার যুদ্ধের কারণে ফেরা মুশকিল হয়ে পড়েছে।
পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার মতিউর রহমান বলেন, জেলার অন্তত ২৬জন শ্রমিক দুবাই, কুয়েত, সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশে আটকে রয়েছেন। তাঁদের পরিবারের লোকজন আমাদের কাছে এসেছেন। আমরা সাহায্যের চেষ্টা করছি। ভারতীয় হাই কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ওই শ্রমিকদের ফেরানোর চেষ্টা করছি। আক্রান্ত দুবাই। ফাইল চিত্র