শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: কারও হাত ভাঙার পর প্রয়োজন ছিল জটিল অপারেশন। কারও ছিল জরুরি স্টেন্ট বা পেসমেকার বসানো। আর প্রতি ক্ষেত্রে ‘সহায়’ হল রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যসাথী। উত্তর ২৪ পরগনায় এই কার্ড গত অর্থবর্ষে সাফল্যের মাইলফলক ছুঁয়েছে—মোট ২৫১ কোটি টাকার চিকিৎসা পরিষেবা বিনামূল্যে পেয়েছে মানুষ। এককথায়, মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প বাস্তবায়নে নজির গড়েছে ‘স্বাস্থ্যসাথী’।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিভিন্ন জনহিতকর প্রকল্পের তালিকায় একেবারে প্রথম সারিতে রয়েছে স্বাস্থ্যসাথী। প্রকল্পটি বিশেষভাবে সাড়া ফেলেছে গ্রামবাংলায়। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, এই কার্ডের সহায়তায় বেশিরভাগ বেসরকারি হাসপাতাল/নার্সিংহোমে চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছে মানুষ। তাই সেগুলির উপর ছিল সর্বক্ষণের প্রশাসনিক নজরদারি। বেসরকারি সংস্থার তরফে বেহিসেবি চিকিৎসা বিল করার প্রবণতা রুখে দেওয়া গিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় স্বাস্থ্যসাথীর উপভোক্তার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৫ লক্ষ। তাদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত উপকৃত হয়েছেন ৫ লক্ষাধিক মানুষ।
প্রশাসন সূত্রের খবর, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে চিকিৎসার ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে রাজ্য সরকারের ভাঁড়ার থেকে এই জেলার জন্য ২৫১ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। আর গত এপ্রিল ও মে মাসে জেলায় আরও কয়েক কোটি টাকার চিকিৎসা হয়েছে। এদিকে, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে চিকিৎসার সুবিধা পেয়েছে ২ লক্ষ ৩ হাজার রোগী। ওই বছর প্রায় ১৮ হাজার মানুষ নতুন কার্ডও করিয়েছে।
এনিয়ে বসিরহাটের বাসিন্দা রাকেশ সাহা বলেন, আমার ঠাকুমার বয়স ৭৫। পড়ে গিয়ে তাঁর কোমর ও হাত ভেঙে যায়। স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেখিয়ে কলকাতার একটি নামী নার্সিংহোমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে তাঁর অপারেশন হয়েছে। তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ। আমরা অত্যন্ত গরিব মানুষ। তাঁর চিকিৎসা করানো নিয়ে ভীষণ চিন্তায় ছিলাম। তাই বলব যে, মুখ্যমন্ত্রীর এই কার্ড আমারা ঠাকুমার পুনর্জীবন দিল।
এদিকে হাবড়ার সুনীতা দাসের বাবা রাধাশ্যাম দাসের ছিল হার্টের রোগ। ভেলোরে গিয়ে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেখিয়ে তাঁর পেসমেকার বসানো হয়েছে। সুনীতা বললেন, মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রকল্পের সুবিধার কথা জীবনে ভুলব না। আমার বাবাকে বাঁচাল এই কার্ড। আমাদের মতো সাধারণ পরিবারকে বাঁচাচ্ছে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প।
এনিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক শরদ কুমার দ্বিবেদী বলেন, রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে এই জেলার বহু মানুষ চিকিৎসা করাচ্ছেন। আমরা সার্বিকভাবে সব দিকেই নজর রাখি। এজন্য জেলায় বিশেষ টিম সক্রিয়।



