Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ২৫ হাজার অনিয়ন্ত্রিত টোটো, মুখ্যসচিবকে স্মারকলিপি পরিবেশকর্মীর

দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ২৫ হাজার অনিয়ন্ত্রিত টোটো, মুখ্যসচিবকে স্মারকলিপি পরিবেশকর্মীর
  • ৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: কোথাও ভিড়ে ঠাসা রাস্তার মাঝেই টোটো দাঁড় করিয়ে যাত্রী তুলছেন চালক। কারও আবার ট্রাফিক সিগন্যালের লালবাতির দিকে তাকানোর ফুরসতই নেই। হাওড়া শহরে রাস্তাজুড়ে শুধুই টোটোর দাপট। এই মুহূর্তে শহরে রেকর্ডহীন টোটোর সংখ্যা অন্তত পঁচিশ হাজার। টোটোর দাপটে বিপর্যস্ত নাগরিক জীবন। টোটো নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের ভূমিকা দাবি করে রাজ্যের মুখ্যসচিবের কাছে স্মারকলিপি পাঠিয়েছেন পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত। 

Advertisement

তিনি বলেন, রাজ্য সরকার আদালতে হলফনামা দিয়ে জানিয়েছিল যে, টোটো হচ্ছে লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি। অথচ বাস্তবে টোটো হয়ে উঠেছে ফার্স্ট মাইল কানেক্টিভিটি। হাজার হাজার অবৈধ টোটো শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা নষ্ট করে দিচ্ছে। প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ দরকার। তাই রাজ্যের মুখ্যসচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। মুখ্যসচিবের পাশাপাশি পরিবহণ সচিব ও হাওড়ার পুলিস কমিশনারের কাছেও স্মারকলিপি দিয়েছেন তিনি।
শহরের রাস্তায় টোটোর দাপট নিয়ে প্রায়ই বিস্তর অভিযোগ তোলে সাধারণ মানুষ। জিটি রোড, ফোরশোর রোড, নেতাজি সুভাষ রোড, বেনারস রোড, শৈলেন মান্না সরণি কিংবা সালকিয়া রোডে বর্তমানে টোটোর দাপটে হাঁটাই দায়। রামরাজাতলার প্রবীণ বাসিন্দা সাগর মুখোপাধ্যায়, রেখা সরকাররা বলেন, অলিগলিতে যে একটু হাঁটাহাঁটি করব, টোটোর দাপটে এখন সেটাও সম্ভব নয়। প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত।
শুধুমাত্র টোটোর কারণেই কাজিপাড়া থেকে হাওড়া ময়দান হয়ে বালি-বেলুড় পর্যন্ত গোটা জিটি রোডে দিনভর যে যানজট লেগে থাকে, তা স্বীকার করে নিচ্ছেন প্রশাসনের কর্তারাই। হাওড়া সিটি ট্রাফিকের এক আধিকারিক বলেন, রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো চলে। ওয়ান ওয়েতে ঢুকে পড়ছে টোটো। ট্রাফিক আইন ভাঙায় রোজই অগুন্তি টোটো আটক করা হয়। শহরে টোটোর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।
এদিকে, প্রতি মাসে কত হাজার টোটো নতুন করে হাওড়া শহরের রাস্তায় নামছে, সেই হিসেবেই নেই জেলা পরিবহণ দপ্তরের কাছে। ফলে মোট টোটোর সংখ্যা অনুমান করাও প্রশাসনের কাছে অন্ধের হস্তিদর্শনের মতো। প্রসঙ্গত, গত বছর হাওড়া শহরে সুনির্দিষ্টভাবে টোটোর সংখ্যা বের করে সেগুলিকে কালার ট্যাগ দিয়ে রুট ভাগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিল প্রশাসন। হাওড়া পুরসভার সঙ্গে সিটি পুলিস যৌথ উদ্যোগও নেয়। কিন্তু আদতে টোটো নিয়ন্ত্রণের যাবতীয় পরিকল্পনা যে বিশ বাঁও জলে, তা হাওড়া শহরের রাস্তায় পা রাখলেই রোজ বুঝতে পারেন শহরবাসী। - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ