Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তিনমাসের মধ্যে পাথর খাদান চালু করে ২৫ হাজার কর্মসংস্থান হবে: অভিষেক

এবার শালতোড়ায় পাথর শিল্প চালুর কথা ঘোষণা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনমাসের মধ্যে পাথর খাদান চালু করে ২৫ হাজার কর্মসংস্থান হবে: অভিষেক
  • ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শালতোড়া: লোকসভা নির্বাচনের আগে দিয়ে গিয়েছিলেন প্রতিশ্রুতি। এবার শালতোড়ায় পাথর শিল্প চালুর কথা ঘোষণা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার শালতোড়া কলেজ ময়দানে অভিষেক দলীয় জনসভা করেন। ওই সভামঞ্চ থেকে তিন মাসের মধ্যে শালতোড়া বিধানসভা এলাকার পাথর খাদান ও ক্র্যাশার খোলা হবে বলে তিনি ঘোষণা করেন। এর ফলে ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলেও অভিষেক এদিন দাবি করেছেন। পাথরশিল্পের পাশাপাশি শালতোড়া ও ছাতনা বিধানসভার খরাপ্রবণ এলাকায় পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। দু’ মাসের মধ্যে সেখানে নলকূপ ও প্রয়োজনমতো পানীয় জলের ট্যাঙ্কার পাঠানো হবে বলে সাংসদ আশ্বাস দিয়েছেন। 

Advertisement


এদিন দুপুর আড়াইটা নাগাদ অভিষেক শালতোড়ার সভামঞ্চে পৌঁছন। তার অনেক আগে থেকেই কলেজ ময়দান ভরে যায়। আকাশে অভিষেকের হেলিকপ্টারটিকে চক্কর কাটতে দেখেই ভিড়ে ঠাসা ময়দান উল্লাসে ফেটে পড়ে। অভিষেক মঞ্চে উঠে হাত নেড়ে সকলকে অভিবাদন জানান। তিনি র‌্যাম্পে হেঁটে চারদিকের জনতার কাছাকাছি পৌঁছনোর চেষ্টা করেন। এদিনের সভায় বাঁকুড়ার সাংসদ তথা রাজ্য তৃণমূল নেতা অরূপ চক্রবর্তী সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভামঞ্চে বাঁকুড়া পুরসভার নির্দল কাউন্সিলার দিলীপ আগরওয়াল ও শালতোড়ার বিজেপি নেতা কালিপদ রায় এদিন তৃণমূলে যোগ দেন। 


অভিষেক বলেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে শালতোড়ার পাথর শিল্প চালুর ব্যাপারে আমি আশ্বাস দিয়েছিলাম। বর্তমানে শালতোড়ায় চারটি ও মেজিয়ায় একটি পাথর খাদান রয়েছে। শালতোড়া বিধানসভা এলাকায় ২৫০টির মধ্যে ১২০টি ক্র্যাশার চালু রয়েছে। একটি খাদান চালু করতে এক হেক্টর জমি লাগে। রাজ্য সরকারের পাশাপাশি অন্যান্য দপ্তরের অনুমোদনও প্রয়োজন হয়। খাদান মালিককে ৩০-৩২ লক্ষ টাকা জমা দিতে হয়। সমগ্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দু’ বছর সময় লাগে। আমি গত দু’ মাস ধরে শালতোড়ার পাথর শিল্প চালুর জন্য চেষ্টা করে গিয়েছি। এদিন সকালেও বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। সরকারের যাবতীয় অনুমোদন দেওয়ার ব্যাপারে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। শালতোড়ায় সরকারের ১৩৩ হেক্টর জমি রয়েছে। সেখানে ১৮টি খাদান চালু হবে। ৩১ মার্চের মধ্যে সব খাদান ও পাথরকল চালু হয়ে যাবে। তখন ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। অভিষেক আরও বলেন, নবজোয়ার কর্মসূচির সময়ে ছাতনা এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় আমাকে স্থানীয়রা পানীয় জলের সমস্যার কথা জানান। আমি শালতোড়ার সভার আগে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। শালতোড়া ও ছাতনা এলাকায় ১৫০টি নলকূপ বসানো হবে। এছাড়াও প্রয়োজনের ভিত্তিতে গরমের মরশুমে ট্যাঙ্কারে পানীয় জল পাঠানো হবে। আগামী দু’ মাসের মধ্যে নলকূপ বসানোর কাজ হয়ে যাবে। 


অভিষেক এদিন বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের খনি বিভাগের আধিকারিকরা পাথর খাদান চালুর জন্য ঘুষ চেয়েছেন। শালতোড়ায় পাথর খাদান চালু করতে না পারা নিয়ে বিজেপি আমাদের বিরুদ্ধে কথাবার্তা বলছে। অথচ তাদের দল পরিচালিত সরকারের আধিকারিকরা ঝাড়খণ্ডে বসে টাকা চাইছেন। কেন্দ্র জলজীবন মিশনের আড়াই হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছে। রাজ্য সরকার ৪৫৬০ কোটি টাকা দিয়ে পানীয় জলের প্রকল্প রূপায়ন করছে। এ ব্যাপারে বিজেপি নেতাদের দেখতে পেলেই প্রশ্ন করার জন্য অভিষেক উপস্থিত জনতার কাছে আবেদন জানান।
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুভাষ সরকার বলেন, মানুষ এখন তৃণমূলকে প্রশ্ন করছে। তাই শাসক দলের নেতারা এসব বলে বেড়াচ্ছেন। দুর্নীতির কারণেই কেন্দ্রীয় সরকার বরাদ্দ আটকে রেখেছে। আগের বরাদ্দকৃত অর্থের হিসেব দিলেই সব টাকা ছেড়ে দেওয়া হবে। সাংসদ থাকাকালীন বৈধ উপায়ে পাথর খাদান চালুর জন্য আমিও সব মহলে আবেদন জানিয়েছিলাম।   

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ