কালীপুজোয়  মোতায়েন হবে ২,৫০০ পুলিশ, অপরাধ রুখতে তৎপরতা তুঙ্গে
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: কালীপুজোয় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে বারাসত জেলা পুলিশ। উৎসবের ভিড়ে অপরাধ দমন, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা— সব ক্ষেত্রেই বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বারাসত ও মধ্যমগ্রামকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তৈরি হয়েছে নিরাপত্তার ব্লু-প্রিন্ট। পুজো ও প্রতিমা দর্শনের দিনগুলিতে প্রায় আড়াই হাজার পুলিশকর্মী মোতায়েন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষম মানুষদের গাড়িতে করে ঠাকুর দেখানোর ব্যবস্থা করতে চলেছে পুলিশ।

Advertisement

বারাসতে এবার কালীপুজো ও উৎসব পাঁচদিনের। তাই আজ, বুধবার থেকে বিশেষ অভিযানে নামছে বারাসত জেলা পুলিশ। বিভিন্ন হোটেল, লজ ও গেস্ট হাউসে চলবে তল্লাশি। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সংবেদনশীল এলাকায় শুরু হবে নাকা চেকিং। পাশাপাশি, সাদা পোশাকের পুলিশকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি চালাবেন। সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে এলে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে। বারাসত থানার আইসি অনুপম চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ইতিমধ্যে এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা, জনবহুল এলাকা ও স্পর্শকাতর স্থানগুলিতে বাড়তি নজর রাখছে পুলিশ। পুজোর সময় দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়লে যাতে কোনোরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন পুজো কমিটির সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পকেটমারি, ছিনতাই ও চুরির মতো অপরাধের আশঙ্কা বাড়ে। বহু মানুষ পরিবারের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পড়েন। ওই সময় ফাঁকা বাড়িতে চুরির ঘটনা ঠেকানোও পুলিশের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। এই সমস্ত অপরাধের মোকাবিলায় ইতিমধ্যে কয়েকটি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই সব জায়গায় বাড়ানো হচ্ছে নজরদারি। বাইকে করে পুলিশের বিশেষ টহলদারি দল ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছে। পুজো কমিটিগুলিকে সতর্ক করেছেন বিজেপি বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, চোরবাগানের মতো ঘটনা বারাসতে ঘটতে দেওয়া যাবে না। বারাসতের কালীপুজোকে কলঙ্কিত হতে দেবেন না তাঁরা। 
বারাসত পুলিশ জেলার অতিরিক্ত সুপার দুর্বার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কালীপুজোয় সাধারণ মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উপভোগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। পুজোর ভিড় ও মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। অপরাধ দমনে বিশেষ নজরদারি, নাকা চেকিং এবং সাদা পোশাকে পুলিশকর্মীদের টহল চলবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অসুস্থ ও শারীরিকভাবে অক্ষমদের ঠাকুর দেখানোর পরিকল্পনা নিয়েছি আমরা। উৎসবের আনন্দ সবার কাছে পৌঁছে যাক, এটাই আমাদের চাওয়া।’ মঙ্গলবার বারাসত পুলিশ জেলার উদ্যোগে দোলতলা পুলিশ লাইনে আয়োজিত হয় বিজয় সম্মিলনি। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার জে মার্সি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, স্থানীয় বিধায়ক।  নিজস্ব চিত্র