


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্কুল সার্ভিস কমিশনের এসএলএসটি ২০১৬-তে চাকরিহারা শিক্ষকদের মধ্যে প্রায় ২৫৬ জন ছিলেন মাদ্রাসায় কর্মরত। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তাঁদের মাদ্রাসাতেই ফিরে যাওয়ার কথা। তবে, এখনও কমিশনের তরফে কোনও উদ্যোগ না থাকায় দুশ্চিন্তায় দিন গুনছেন এই শিক্ষকরা। বিকাশ ভবনে স্কুল শিক্ষাদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষাদপ্তরে ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন সমস্ত নথি নিয়ে।
এমনই এক শিক্ষক মোর্তাজা আহমেদ বলেন, ‘স্কুল শিক্ষাদপ্তর ইতিমধ্যেই শিক্ষকদের নিয়োগ শুরু করেছে। অন্যান্য দপ্তরেও তা হয়ে গিয়েছে। তবে, মাদ্রাসার শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সেই অর্ডার এখনও জারি করেনি কমিশন। স্কুল শিক্ষাদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষাদপ্তরের থেকেও ফাইল চলে এসেছে। এবার আদালত নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে গেলে সেই নিয়োগের বৈধতা থাকবে কি না, সেটা নিয়েও আমরা সংশয়ে রয়েছি।’
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্ট এই ধরনের শিক্ষকদের তিনমাসের মধ্যে আগের কর্মস্থলে ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছিল। সেই সময়সীমা ইতিমধ্যেই পেরিয়েছে। সংখ্যালঘু বিষয়ক ও মাদ্রাসা শিক্ষাদপ্তরের সচিব, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ভারপ্রাপ্ত পি বি সেলিম বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এমন প্রার্থীদের আবেদনের ভিত্তিতে পুরোনো কর্মস্থলে ফেরানোর কথা বলা হয়েছে। সব বিভাগের মতো আমরাও সেটা করছি।’
সচিব একথা বললেও এখনও এই ব্যাপারে কোনও অর্ডার জারি না-হওয়ায় দুশ্চিন্তা কাটছে না প্রার্থীদের। এদিকে, পুরোনো স্কুলে ফেরা বহু প্রার্থী অন্য সমস্যায় পড়েছেন। শিক্ষক সংগঠন এসটিইএ-র অন্যতম নেতা অনিমেষ হালদার বলেন, ‘বহু প্রার্থীর বিষয়, শ্রেণি, ভাষামাধ্যম ভুল এসেছে। কারও কারও সংশোধন করা হয়েছে। তবে, এখনও অনেকের হয়নি। তাঁরা যোগ দিতে পারছেন না। এদিকে, নিয়োগপত্রের সময়সীমাও শেষ হচ্ছে। তাই একটি সার্বিক অর্ডার যদি জারি করা হয়, যাতে নিয়োগপত্রে ভুল থাকলেও আপাতত যোগ দিতে পারেন শিক্ষকরা, তাহলে অনেকেই উপকৃত হবেন।’