নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: প্রায় ন’বছর আগের ঘটনা। অধ্যাপকের স্ত্রী ও কন্যাকে ছেলেধরা সন্দেহে গ্রামবাসীরা মারধর শুরু করে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় তাঁদের গাড়ি। ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে, আক্রমণ হয় তাঁদের উপরও। সেই ঘটনায় বৃহস্পতিবার চুঁচুড়া ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের প্রথম কোর্ট ২৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত ঘোষণা করেছে। আজ, সাজা ঘোষণা।
২০১৭ সালের ২১ জানুয়ারি কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অধ্যাপকের স্ত্রী ও কন্যা সকালের দিকে গাড়ি নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন হুগলির বলাগড়ের আশানপুরে। বাড়ির জন্য নতুন কাজের লোক খুঁজতে গিয়েছিলেন তাঁরা। সঙ্গে গাড়ির চালকও ছিল। শহর থেকে হঠাত্ দুই মহিলা ও একজন পুরুষ আসবেন কেন? নিমেষে গোটা গ্রামে ছড়িয়ে যায়, ‘ছেলেধরা এসেছে।’ খবর চাউর হওয়া মাত্রই সশস্ত্র গ্রামবাসীরা জড়ো হতে শুরু করেন। একটা সময় দুই মহিলা ও তাঁদের গাড়ির চালকের উপর আক্রমণ শুরু হয়। অধ্যাপকের স্ত্রী-কন্যা ও গাড়ির চালককে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁদের গাড়িতে আগুন ধরানো হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশও এসে পৌঁছয়। পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো শুরু করেন গ্রামবাসীরা। একটা সময় বিক্ষোভ এমন চরম পৌঁছে যায় যে, প্রাণ হাতে করে অধ্যাপকের স্ত্রী-কন্যা পালিয়ে বাঁচেন। কিন্তু উন্মত্ত গ্রামবাসীদের হাত থেকে ছাড় পায় না বলাগড় থানার পুলিশ। পুলিশের গাড়িতেও হামলা, ভাঙচুর করা হয়। এক সিভিক পুলিশ কর্মী অখিলবন্ধু ঘোষ তিরবিদ্ধ হন। সকলকে গুরুতর জখম অবস্থায় কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
ঘটনার তদন্তে নামে বলাগড় থানার পুলিশ। কীভাবে ওই দুই মহিলাকে দেখে গুজব ছড়ানো শুরু হয়, সেই বিষয়ে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। গোটা ঘটনায় মোট ২৫ জন গ্রামবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই বছরের ৯ জুন আদালতে চার্জশিট পেশ করে পুলিশ। দীর্ঘ ৯ বছর শুনানি চলার পর ওই ২৫ জনকেই এদিন দোষী সাব্যস্ত করেছেন বিচারক পীযুষ কান্তি ঘোষ। আইনজীবী মহল বলছেন, হুগলি জেলায় একটি ঘটনায় ২৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা নজিরবিহীন ঘটনা। এর আগে আরামবাগে একটি ঘটনায় মোট ২০ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। এই মামলায় সরকারি আইনজীবী ছিলেন শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায়, জয়ন্ত সাহা। তাঁরা বলছেন, খুনের চেষ্টার মতো ধারা রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি জানাব।