নয়াদিল্লি: ফের শীর্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারত। তবে এই ‘সাফল্য’ মোটেই গৌরবজনক নয়। কারণ, বেতন ছাড়াই বাড়তি কাজ বা বেগার খাটার নিরিখে নয়া এই শিরোপা জুটেছে দেশের কপালে। সম্প্রতি ‘পিপল অ্যাট ওয়ার্ক ২০২৬’ নামে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে এডিপি রিসার্চ। তাতে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়েই বহু সংখ্যক কর্মী সপ্তাহে ১৬ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ওভারটাইম বা অতিরিক্ত কাজ করছেন। কিন্তু, এর জন্য বাড়তি কোনো অর্থ তাঁরা পাচ্ছেন না। অর্থাৎ, বেগার খাটছেন। সমীক্ষা বলছে, এধরনের বেগারখাটা শ্রমিক বা কর্মীর সংখ্যার নিরিখে বিশ্বের মধ্যে শীর্ষ স্থান অধিকার করেছে ভারত। দেশের ২৪ শতাংশ কর্মী বাড়তি বেতন ছাড়াই সপ্তাহে ১৬ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ওভারটাইম করছেন। আরও প্রায় ৪০ শতাংশ সপ্তাহে ৬ থেকে ১৫ ঘণ্টা অতিরিক্ত কাজ করছেন। কিন্তু, তার জন্য আলাদা কোনো টাকা পাচ্ছেন না।
গোটা বিশ্বের পরিস্থিতি অবশ্য এতটাও খারাপ না। প্রায় ৬২ শতাংশ কর্মীই বলেছেন, বাড়তি বেতন ছাড়াই সপ্তাহে তাঁদের প্রায় ৫ ঘণ্টা ওভারটাইম করতে হয়। ২৬ শতাংশের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাজের সময় ৬ থেকে ১৫ ঘণ্টা। বাকি ১২ শতাংশের ক্ষেত্রে তা সপ্তাহে ১৬ ঘণ্টা বা তার বেশি।
সমীক্ষক সংস্থা জানিয়েছে, অফিসে কাজের সময়ের মধ্যে টিফিনের সময় বা ওভারটাইম ধরা থাকে না। কিন্তু, বেশ কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, কর্মীরা লাঞ্চের সময়টুকুও পাচ্ছেন না। ল্যাপটপ বা ডেস্কটপে মাথা গুঁজে রয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, অফিস আওয়ার শেষ হয়ে যাওয়ার পরও কাজ করতে হচ্ছে অনেককে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এই প্রবণতা অত্যন্ত ক্ষতিকর। কারণ, বেশিভাগ ক্ষেত্রেই চাপ দিয়ে বেশি সময় অফিসে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে। কিন্তু, বাড়তি সময় অফিসে থাকা মানেই কাজের গুণ ও মান বৃদ্ধি নয়! বরং তাতে নেতিবাচক প্রভাবই পড়ছে। কর্মীদের উপর মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে কাজের বোঝা কমাতে অনেক সময়ই তাঁরা বিকল্পের খোঁজ শুরু করছেন।