Bartaman Logo
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছত্তিশগড়ে কাজে গিয়ে রাইপুরে ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক সামশেরগঞ্জের ২৩ শ্রমিক

বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে চরম বিপাকে বাংলার ২৩ জন পরিযায়ী শ্রমিক।

ছত্তিশগড়ে কাজে গিয়ে রাইপুরে ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক সামশেরগঞ্জের ২৩ শ্রমিক
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে চরম বিপাকে বাংলার ২৩ জন পরিযায়ী শ্রমিক। ছত্তিসগড়ের রাইপুর ডিটেনশন ক্যাম্পে গত ৭২ ঘণ্টা ধরে আটকে রাখা হয়েছে মুর্শিদাবাদের সূতি ও সামশেরগঞ্জের বাসিন্দা এই শ্রমিকদের। পরিবার ও পরিচিতদের দাবি, কেড়ে নেওয়া হয়েছে তাঁদের মোবাইল ফোন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। তিন দিন ধরে কোনো যোগাযোগ না পাওয়ায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্যে সোমবার সকালে ছত্তিশগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। উদ্বিগ্ন পরিবারের লোকজন তাদের গ্রামের বাড়িতে ফিরিয়ে আনার পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে আর্জি জানিয়েছেন।

Advertisement

এ প্রসঙ্গে জঙ্গিপুরের সংসদ সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, আমি ইতিমধ্যেই শ্রমিকদের ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে জঙ্গিপুরের পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি। রাজ্যের চিফ সেক্রেটারিকে চিঠিও লিখেছি। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সূতি ও সামশেরগঞ্জের বেশ কয়েকজন যুবক বিগত কয়েক বছর ধরে ছত্তিশগড়ে হকার বা ফেরিওয়ালার কাজ করছেন। সামশেরগঞ্জের ধানঘরা গ্রামের মোস্তাকিম শেখ, সাবির শেখ এবং সূতির হাড়োয়ার লাল্টু শেখদের মতো ২৩ জন শ্রমিককে সম্প্রতি ছত্তিশগড় পুলিশ আটক করে রাইপুরের ডিটেনশন ক্যাম্পে পুরে দেয়। আটক শ্রমিকদের পরিবার জানিয়েছে, ভারতের নাগরিক হওয়ার যাবতীয় বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছে। সোমবার সকালেই ছত্তিশগড়ের ট্রেনের টিকিট কেটেছেন সাবির ও মোস্তাকিমের বাবা রিয়াজুদ্দিন শেখ এবং লাল্টুর বাবা নইমুদ্দিন শেখ। চোখে জল আর বুকে আতঙ্ক নিয়ে তাঁরা বলেন, ছেলেরা ওখানে কাজ করতে গিয়েছিল, কোনো অপরাধ করেনি। সব নথি নিয়ে যাচ্ছি, পুলিশকে দেখিয়ে ওদের উদ্ধার করব।
রঘুনাথগঞ্জের বাসিন্দা তথা বন্দী শ্রমিকদের মহাজন জাকির হক ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, আমি গত ২৯ বছর ধরে ছত্তিশগড়ে ব্যবসা করছি। আমার অধীনে ১৭ জন ফেরিওয়ালা কাজ করেন। সাধারণত স্থানীয় সিরগিট্রি থানার পুলিশ প্রতি ৬ মাস অন্তর আমাদের নথিপত্র যাচাই করে ছেড়ে দেয়। কিন্তু এবার হঠাৎ আমার ছেলে সহ মোট ২৩ জনকে ছত্তিশগড়ের ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছে। আমি একজন আইনজীবী সঙ্গে নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় রওনা হচ্ছি। সেখানে পৌঁছে আইনি পথে ছেলেদের ছাড়ানোর সব চেষ্টা করব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ