নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সরকারি নথিতে এখনও পরিচয় ‘ভেস্টেড ল্যান্ড’ হিসাবে। কিন্তু বাস্তবে এই জমির চেহারা অন্য! কোথাও বিস্তীর্ণ জলাকর, কোথাও মাছের ভেরি, কোথাও আবার স্থায়ী নির্মাণ। উত্তর ২৪ পরগনায় প্রায় ২২ হাজার একর সরকারি জমি এখনও সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এই প্রশাসনিক তথ্য জানাজানি হতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির অভিযোগ, গোটা ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূলের প্রভাবশালীরা। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় মোট ৪৬ হাজার ২২৬ একর সরকারি বা ভেস্টেড জমি রয়েছে। তার মধ্যে বাধামুক্ত মাত্র ২৪ হাজার ৮৩২ একর। বাকি প্রায় ২২ হাজার একর জমি বেহাত হয়ে গিয়েছে। প্রশাসনের একাংশের বক্তব্য, এই জমির বড়ো অংশই এখন আর জমি হিসাবে নেই। দীর্ঘদিন ধরে সেগুলি ভেরি বা জলকরে পরিণত হয়েছে। সরকারি জমিতে মাছ চাষ হচ্ছে, ব্যবসা হচ্ছে, আয় হচ্ছে। কিন্তু সেই আয়ের কোনো অংশই সরকারের ঘরে ঢুকছে না।
সূত্রের খবর, সমস্যার জটিলতা অন্য জায়গায়। বহু ক্ষেত্রে জমি শুধু দখল হয়নি, তার ব্যবহারও বদলে গিয়েছে। বিগত সরকারের আমলে তা পুনরুদ্ধার করা ছিল কার্যত অসম্ভব। বিজেপির স্পষ্ট দাবি, এই চিত্র কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বেশি রয়েছে বসিরহাট মহকুমায়। উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্তে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি জমি দখল করে ভেরি তৈরির অভিযোগ রয়েছে। পদ্ম শিবিরের এক নেতার কথায়, সরকারি সম্পত্তিকে নিজের মতো করে ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু দখল নয়, জমির চরিত্রই বদলে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল নেতাদের একাংশ সরকারি জমি দখল করে মাছ চাষ ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করার সুযোগ করে দিয়েছে। ফলে, বছরের পর বছর ধরে সরকারি সম্পত্তি থেকে লাভ তুলেছেন ব্যক্তিবিশেষ। বঞ্চিত হয়েছে রাজ্য সরকার। বসিরহাট মহকুমায় সবচেয়ে বেশি সরকারি জমি ভেরিতে পরিণত হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। বসিরহাটের পাশাপাশি বারাসত মহকুমার বিস্তীর্ণ অংশেও একই ছবি। ফলে জমি উদ্ধারের প্রশ্নে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এই এলাকাগুলিতেই।
দপ্তরের এক কর্তার কথায়, এটা বহুদিনের সমস্যা। কোথাও কোথাও সরকারি জমিতে ভেরি রয়েছে। সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হবে। এনিয়ে বিজেপির হাড়োয়ার মণ্ডল সভাপতি ভাস্কর মণ্ডল বলেন, বিজেপির আমলে করে খাওয়ার দিন শেষ। মুখ্যমন্ত্রী সব দিক খতিয়ে দেখবেন। জেলায় সরকারি জমিকে তৃণমূলীরা নিজেদের সম্পত্তি ভেবেছিল। এবার কী হয় দেখুন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা তাপস মিত্রর কটাক্ষ, তৃণমূলের পাশাপাশি প্রশাসনের একাংশের মদতেই এই কাজ হয়েছে। আমাদের সরকার এর শেষ দেখে ছাড়বে। সরকারি সম্পত্তি এভাবে নয়ছয় হতে দেওয়া যাবে না।