২২০টির ‘স্পট টেস্ট’, ভেজাল মাত্র ১৯টিতে! পুজোয় শহরে খাবারের গুণমানে লেটার মার্কস
  • ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর সময় শহরের বহু ফুটপাতে এবং পুজো মণ্ডপগুলির আশপাশে অস্থায়ী ফাস্ট ফুডের স্টল বসে। পাশাপাশি রাস্তার ধারে বা ফুটপাতেও বহু স্থায়ী স্টলে প্রচুর পরিমাণে স্ট্রিট ফুড বিক্রি হয়। বিভিন্ন রেস্তরাঁতেও প্রচুর ভিড় জমে। দ্রুত খাবার সার্ভ করতে গিয়ে রান্নার মানও কোথাও কোথাও খারাপ হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এগুলি কতটা স্বাস্থ্যকর? তাতে ব্যবহৃত উপাদানের গুণমানই বা কতটা ভালো, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকে মানুষের মনে। প্রতিবছরই পুজোর সময় এই সমস্ত স্ট্রিট ফুডের দোকান, স্টলগুলি, মিষ্টির দোকান, বড়-ছোট রেস্তারাঁয় হানা দেয় কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের আওতাধীন ফুড সেফটি টিম। এবারও শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ, অস্থায়ী ও বিভিন্ন স্থায়ী ফাস্ট ফুডের দোকান ও স্টলে অভিযান চালানো হয়েছিল। অভিযান চালানো হয়েছে বিভিন্ন ফুচকা স্টলেও। তাতে ২২০টি রকমের খাবার ও উপাদানের ‘স্পট টেস্ট’ হয়েছে। যার মধ্যে মাত্র ১৯টি ক্ষেত্রে ভেজাল ধরা পড়েছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর। তাহলে কি খাবারে ভেজাল রুখতে পুরসভার প্রচার-উদ্যোগের ফলে সচেতন হচ্ছে শহর? পুজোর সময় হানা দিয়ে উঠে আসা এই ছবি সন্তুষ্ট করেছে পুর-স্বাস্থ্যকর্তাদের। যদিও, পুর-কর্তারা জানাচ্ছেন, বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে খারাপ খাবার-মাংস ফেলেও দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

পুজো শুরুর আগে হেদুয়া, হাতিবাগান, শ্যামবাজার এলাকার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক খাবারের দোকান, ফুটপাতের স্টলে অভিযান চালিয়েছিল পুরসভার ফুড সেফটি বিভাগ। সেবার তেমনভাবে ভেজালের সন্ধান পায়নি দলটি। পুজোর মরশুম চলাকালীন আটদিন শহরের ১৭৪টি ‘স্পট’ বা খাবারের জায়গায় ঘুরেছে পুর-টিম। প্রতিটি টিমের দায়িত্বে ছিলেন একজন করে ফুড সেফটি অফিসার। সুরুচি সঙ্ঘ, দেশপ্রিয় পার্ক, টালা প্রত্যয়, ম্যাডক্স স্কোয়ার, বাগবাজার থেকে শুরু করে শহরের উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন বড় পুজো মণ্ডপ চত্বরে থাকা স্ট্রিট ফুডের অস্থায়ী স্টলগুলিতে হানা দেওয়া হয়। এমনকী বিভিন্ন রেস্তরাঁতেও চলে অভিযান।
সর্বত্র হলুদ, নুন, লঙ্কার গুঁড়োর মতো একাধিক খাবারের উপকরণ থেকে শুরু করে রান্না করা খাবারেরও নমুনারও ‘স্পট টেস্ট’ হয়। পুরসভা সূত্রে খবর, সর্বত্র মোবাইল টেস্টিং ল্যাবরেটরি ভ্যান নিয়ে ঘোরা হয়েছে। ২২০ রকমের খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে ‘অনস্পট’ খতিয়ে দেখা হয়েছে। যার মধ্যে মাত্র ১৯টি নমুনা পর্যাপ্ত মাপকাঠি ছুঁতে পারেনি। অর্থাৎ সেগুলিতে ভেজাল ছিল। যা সঙ্গে সঙ্গে নষ্টও করে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট খাবারের দোকানগুলিকে নোটিসও দেওয়া হয়। পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগের এক কর্তা বলেন, ১০০ শতাংশ মানুষকে সচেতন করা গিয়েছে, সেটা বলা উচিত হবে না। তবে এখন অনেকাংশেই রাস্তার স্ট্রিট ফুডের দোকান বা স্টলগুলিতেও রান্নার উপকরণগুলি খুব একটা খারাপ মানের ব্যবহার করা হয় না। খাবারের দোকানগুলির ক্ষেত্রেও বড় কোনও ভেজাল চোখে পড়ে না। একটি দোকান থেকে ৬০ কেজি মতো খাবার ফেলা হয়েছিল। এবারের পুজোর অভিযান থেকে সেটাই মনে হচ্ছে। যাঁরা খাবার বিক্রি করছেন তাঁরাও সচেতন হয়েছেন।  চলছে গুণমান যাচাই। -নিজস্ব চিত্র