Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে চিঠি ২২ কাউন্সিলারের

নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে চিঠি ২২ কাউন্সিলারের
  • ১৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সামনের শুক্রবার পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন। তার আগে মুখ্যমন্ত্রী কিংবা তাঁর প্রতিনিধির সঙ্গে কাউন্সিলারদের দেখা করতে চাওয়ার চিঠিকে ঘিরে পানিহাটিতে রাজনৈতিক উত্তাপ ফের বাড়তে শুরু করেছে। এই চিঠিতে অনেক কাউন্সিলার সই করেননি। আবার কোনও কোনও কাউন্সিলারকে সই করতে বলা হয়নি। সব মিলিয়ে পানিহাটিতে নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচন ঘিরে শাসকদলের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তীব্র হয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি মাসের শুরু থেকে অমরাবতী মাঠ নিয়ে পানিহাটি জুড়ে রাজনৈতিক জল্পনা চরমে উঠেছে। নানা টালবাহানার পর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সোমবার পানিহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান মলয় রায়ের পদত্যাগপত্র বোর্ডের বৈঠকে গৃহীত হয়েছে। আগামী শুক্রবার নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের জন্য বোর্ড মিটিং ডাকা হয়েছে। তৃণমূল সূত্রের খবর, সর্বোচ্চ নেতৃত্ব পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে সিআইসি সদস্য সোমনাথ দে’কে চাইছে। তাতে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবুজ সঙ্কেত রয়েছে। শেষ মুহূর্তে কোনও মিরাকল না ঘটলে সোমনাথবাবুই এই দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে থাকবেন। এই আবহে ‘খেলা হবে’ স্লোগান দিয়ে মলয়বাবু বহুদিন টালবাহানা করেন। শেষপর্যন্ত পদত্যাগপত্র জমা দিলেও বলেছিলেন, সব কাউন্সিলারই বোর্ড মিটিংয়ে খেলবেন। কিন্তু রবিবার তিনি ভোলবদলে বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই মানা হবে। সেইমতো তাঁর পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়। সূত্রের খবর, তাঁর এই বিদ্রোহের পিছনে দলের এক প্রভাবশালী নেতা ও কয়েকজন কাউন্সিলারের মদতের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি পিছিয়ে আসেন। তাই বোর্ড মিটিংয়ে সর্বসম্মতভাবে চেয়ারম্যানের পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়। সকলে ভেবেছিলেন, এবার হয়তো জল্পনার অবসান হল। 
কিন্তু এরপর শুরু হয় নতুন খেলা। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা চিঠির নীচে কাউন্সিলারদের সই করানো শুরু হয়। তবে সব কাউন্সিলারকে সই করতে বলা হয়নি। সূত্রের খবর, ওই চিঠিতে তৃণমূলের ৩২ জন কাউন্সিলারের মধ্যে ২২ জনের সই রয়েছে। অনেকে আবার সই করতে চাননি। চিঠিতে লেখা রয়েছে, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী, আপনার নির্দেশে সর্বসম্মতভাবে চেয়ারম্যান অপসারণ হয়েছে। আপনার সঙ্গে বা আপনার কোনও প্রতিনিধির সঙ্গে আমাদের দেখা করার সুযোগ দেওয়ার প্রার্থনা জানাই। আপনার নির্দেশ অনুযায়ী, চেয়ারম্যানকে অপসারণের পাশাপাশি সর্বসম্মতভাবে নতুন চেয়ারম্যানও নির্বাচিত করা হবে। এই চিঠির মাধ্যমে সেই প্রভাবশালী নেতার পক্ষে কারা আছেন, তা বোঝার পাশাপাশি দলকেও বার্তা দেওয়া হল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এইভাবে গোষ্ঠী রাজনীতি বাড়লে সামনের বিধানসভা ভোটে শাসকদলকে বেশ বেগ পেতে হবে।
ওই চিঠিতে সই করেননি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সুভাষ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, এদিন সকালে দুই কাউন্সিলার আমার কাছে এসে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা চিঠিতে সই করতে বলেছিলেন। আমি তাতে সই করিনি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ