


নয়াদিল্লি: রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে ২১৭ জন ভারতীয় যোগ দিয়েছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধে তাঁদের মধ্যে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ কমপক্ষে ছ’জন। সুপ্রিম কোর্টকে দেওয়া তথ্যে একথা জানিয়েছে কেন্দ্র। আরও জানানো হয়েছে, ১৩৯ জনকে সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দেশে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। এক্ষেত্রে রাশিয়ার ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে নয়াদিল্লি। এদিকে, রবিবার ভোররাতে ফের ইউক্রেনে বড়োসড়ো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল রাশিয়া। জানা গিয়েছে, কিয়েভের একাধিক সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে প্রায় ৬০০টি ড্রোন ও ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী অবশ্য জানিয়েছে, রুশ বাহিনীর ৫৪৯টি ড্রোন ও ৫৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। ১৯টি ক্ষেপণাস্ত্র নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি।
জানা গিয়েছে, লোভনীয় বেতনের চাকরির টোপ দিয়ে ভারতীয়দের রাশিয়া নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারপর তাঁদের জোর করে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধক্ষেত্রে নামানো হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে ভ্লাদিমির পুতিনের দেশের বিরুদ্ধে একাধিকবার এই অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজনের পরিবারের অভিযোগ, রুশ সেনায় কর্মরত ভারতীয়দের দেশে ফেরানোর ব্যাপারে উদাসীন নয়াদিল্লি। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়তেই নড়েচড়ে বসে কেন্দ্রীয় সরকার। জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। এই অবস্থায় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে একাধিক তথ্য দেন কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি। তিনি জানান, ছ’জন ভারতীয়র নিখোঁজ থাকার খবর নিশ্চিত করেছে রাশিয়া। তবে এখনও পর্যন্ত আরও ২৩ জনের কোনো খবর মেলেনি। শীর্ষ আদালতকে তিনি বলেন, ‘আর কেউ মারা গিয়েছেন কি না, সেই তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। রুশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ভারতীয় দূতাবাস। জীবিতদের দ্রুত দেশে ফেরানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ইন্ডিয়ান কমিউনিটি ওয়েলফেয়ার ফান্ড থেকে ৪৮টি বিমান টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
এত সংখ্যক ভারতীয় হঠাৎ রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন কেন? জবাবে কেন্দ্র শীর্ষ আদালতকে জানিয়েছে, লোভনীয় প্যাকেজ, সামাজিক সুরক্ষা, ক্ষতিপূরণ, নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রুশ সেনায় যোগদানে আকৃষ্ট করা হয়। অনেকেই সেই ফাঁদে পা দিয়েছেন। ভাটি বলেন, ‘সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, কয়েকজন ভারতীয় স্বেচ্ছায় রুশ সেনায় যোগদান করেছেন। চাকরির প্যাকেজ দেখেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন তাঁরা। যোগদানের সঙ্গে সঙ্গে বোনাস হিসাবে প্রায় ৫ হাজার মার্কিন ডলার দেওয়া কথা জানানো হয়েছিল। মাসে বেতন বাবদ মিলবে আড়াই হাজার ডলার। মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণ হিসাবে ১ লক্ষ ৬৮ হাজার মার্কিন ডলার দেওয়া হবে। সঙ্গে ছিল রুশ নাগরিকত্ব ও সামাজিক সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি। এসব দেখেই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন ভারতীয়রা।’
এখানেই শেষ নয়। জানা গিয়েছে, রুশ জেলে বন্দি ভারতীয়দের মুক্তির লোভ দেখিয়ে সেনায় যোগদান করানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে কিশোর সারাভানান ও সাহিল মহামাদুসেন মাজোথি নামে দুই পড়ুয়ার কথা উল্লেখ করেছে কেন্দ্র। জানা গিয়েছে, দু’জনেই মাদক মামলায় জেল খাটছিলেন। পরে ছাড়া পাওয়ার আশায় বাহিনীতে যোগদান করেন। ভারত সরকারের হস্তক্ষেপে কিশোরকে ছেড়ে দেয় সশস্ত্র বাহিনী। তবে রাশিয়ার নাগরিকত্ব নিয়ে সেখানেই থেকে যান তিনি। অন্যদিকে, ইউক্রেন সেনার কাছে আত্মসমর্পণ করেন সাহিল।