Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অস্ট্রেলিয়ায় ২০০ কোটির প্রতারণা, শহরে ধৃত ২১

অস্ট্রেলিয়ায় ২০০ কোটির প্রতারণা, শহরে ধৃত ২১
  • ২৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২২ সালে প্রতারণার কারবার ফেঁদেছিল তারা। ভিপিএন পদ্ধতি ব্যবহার করে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের ফোন করে বলা হতো, তাঁদের ইন্টারনেট কানেকশনের কেবল লাইনটি কপারের। সেটি ফাইবারের করাতে হবে, না হলে বন্ধ হয়ে যাবে ইন্টারনেট পরিষেবা। এই ফাঁদে পা দিয়ে অনেকেই জানতে চাইতেন— তাহলে কী করণীয়? এরপর নাম, মোবাইল নম্বর ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য হাতিয়ে সাফ করে দেওয়া হতো বিদেশিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। এভাবে তিন বছর কল সেন্টার চালিয়ে তারা দু’শো কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিয়েছে। তবে শেষরক্ষা হল না। রাজ্য পুলিসের সাইবার ক্রাইম উইংয়ের তল্লাশিতে ধরা পড়ে গেল বেআইনি কল সেন্টারের মাথা সহ শাগরেদরা। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২১ জনকে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে এটিএম কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি, কম্পিউটার, ল্যাপটপ সহ বিভিন্ন সামগ্রী।

Advertisement

সাইবার ক্রাইম উইং সূত্রে খবর, অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাস কিছুদিন আগেই তাদের জানায়, কলকাতায় বসে সেদেশের নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের টাকা জমা পড়েছে। তার ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে জানা যায়, দক্ষিণদাঁড়ি এলাকার একটি ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। তার কাছেই ফ্ল্যাট ভাড়া চলছে কল সেন্টার। সোমবার গভীর রাতে সেখানে অভিযান চালান তদন্তকারীরা। সব মিলিয়ে টানা ২৪ ঘণ্টার অপারেশন শেষে গ্রেপ্তার করা হয় ২১ জনকে।
তদন্তে জানা গিয়েছে, কল সেন্টারটি খোলা হয় ২০২২ সালে। ডার্ক ওয়েব থেকে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের মোবাইল নম্বর কিনত জালিয়াতরা। সেগুলি কম্পিউটারে আপলোড করার পর অটো জেনারেটেড কল যেত অস্ট্রেলিয়ায়। ভিপিএন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিওআইপি কল করত তারা। এক্ষেত্রে ব্যবহার করা হতো ফিনল্যান্ড ও ফ্রান্সের আইপি অ্যাড্রেস। এর ফলে কোথা থেকে কল আসছে, তা কেউ সহজে বুঝতে পারতেন না। দক্ষিণদাঁড়ির অফিসে বসেই বিদেশি নাম ব্যবহার করে ফোন করত জালিয়াতরা। প্রাথমিকভাবে বিশ্বাস অর্জনের পর সেই ফোন ট্রান্সফার করে দেওয়া হতো অন্য এক জালিয়াতের কাছে। ফাঁদে পা দেওয়া বিদেশি নাগরিকের ফোন নম্বর, নাম, অ্যাকাউন্টের নথি জোগাড় করা হতো। কখনও আবার পরিষেবা দেওয়ার নাম করে লিঙ্কও পাঠাত। ব্যাঙ্কের তথ্য হাতানোর পর সংশ্লিষ্টের অ্যাকাউন্টে ঢুকে হাতিয়ে নিত অস্ট্রেলিয়ান ডলার। সেই মুদ্রাই ঢুকত জালিয়াতদের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে। তিন বছরে এভাবে তারা ২০০ কোটি টাকা হাতিয়েছে বলে খবর। জালিয়াতির টাকা অভিযুক্তরা ক্রিপ্টো কারেন্সিতে বিনিয়োগ করেছে। সেই অ্যাকাউন্টের খোঁজ চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ