Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাজবল্লভপাড়ার মুক্ত উদ্যান গ্রন্থাগারে এক বছরে এসেছেন ২০ হাজার মানুষ

শহরের গুটিকয়েক নাগরিকের আন্তরিক ভালোবাসায় গড়ে উঠেছিল ‘মুক্ত’ গ্রন্থাগারটি। সেটি আজ চারাগাছ থেকে বৃক্ষে পরিণত হয়েছে।

রাজবল্লভপাড়ার মুক্ত উদ্যান গ্রন্থাগারে এক বছরে এসেছেন ২০ হাজার মানুষ
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত বসু , কলকাতা: শহরের গুটিকয়েক নাগরিকের আন্তরিক ভালোবাসায় গড়ে উঠেছিল ‘মুক্ত’ গ্রন্থাগারটি। সেটি আজ চারাগাছ থেকে বৃক্ষে পরিণত হয়েছে। উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুরে রাজবল্লভপাড়ায় গড়ে ওঠা সেই মুক্ত উদ্যান গ্রন্থাগারে গত এক বছরে প্রায় ২০ হাজার মানুষ এসে পড়াশোনা করেছেন। সেখানে রয়েছে ১৫ হাজারের বেশি বই। পত্র‑পত্রিকার সংখ্যা প্রায় সাত হাজারের মতো। এই গ্রন্থাগারের সঙ্গে যুক্ত মানুষজনের কাছ থেকেই এমন তথ্য জানা গিয়েছে। তাঁদের কথায়, দিনকে দিন এই গ্রন্থাগারের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। রোজই বইপ্রেমীরা আসেন। কেউ কেউ অনেকটা সময় ধরে বিভিন্ন বিষয়ের উপর পড়াশোনাও করেন। অনেকে আবার স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে গ্রন্থাগারের বইপত্র ঝাড়পোঁছও করেন। এলাকার বাসিন্দারা জানান, বর্তমানে স্থানীয় কাউন্সিলার পূজা পাঁজাও এই গ্রন্থাগারটিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকেরই বক্তব্য, এই গ্রন্থাগারে বিভিন্ন মনিষীদের জন্ম ও মৃত্যুদিন পালন করা হয়। সপ্তাহে একদিন করে চলে বিজ্ঞানের ক্লাসও। এগুলি তো বাড়তি প্রাপ্তি।

Advertisement

এক দশকেরও বেশি সময় আগে এই উদ্যানের নিরাপত্তারক্ষী সত্যরঞ্জন দলুই এলাকার কয়েকজন বাসিন্দাকে নিয়ে শুরু করেছিলেন এই উদ্যান গ্রন্থাগার। প্রথম দিকে তিনি এলাকার বিভিন্ন মানুষজনের কাছে গিয়ে বই চেয়ে শুরু করেন এই গ্রন্থাগার। তাতে তিনি সাড়াও পান। এই কাজে খুশি হয়ে অনেকেই তাঁর পাশে এসে দাঁড়ান। কথা হচ্ছিল সত্যবাবুর সঙ্গে। তিনি বলেন, যাঁরা এই গ্রন্থাগারে বই দিতে ইচ্ছুক, এখনও সময় পেলে তাঁদের বাড়ি চলে যাই। তাঁরা ভালোবেসে যে বইপত্র দেন, তা এই গ্রন্থাগারে সাজিয়ে রাখি। তাই যদি আরও কিছু মানুষজন এগিয়ে আসেন, তাহলে গ্রন্থাগারটিকে আরও ভালো করে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

এই গ্রন্থাগারেই বইপত্র দেখছিলেন সোমা মুখোপাধ্যায় নামে এক গৃহবধূ। তিনি বলেন, এখানে অন্যান বইয়ের সাথে ধর্মকেন্দ্রিক বইও রয়েছে প্রচুর সংখ্যায়। তাই মাঝেমধ্যে এখানে এসে সেই বইগুলি দেখি। অঞ্জন সাঁই নামে এক যুবক বলেন, খুব ভালো পরিবেশ। তাই হাজারো কাজের মধ্যেও যদি একটু সময় হাতে পাই, এখানে এসে সংবাদপত্র, বইয়ে একটু চোখ বোলাই। অভিজিৎ শীল নামে আরেক যুবক বলেন, এখানে রয়েছে বহু প্রাচীন গ্রন্থও। আছে নানা ইতিহাসমূলক বইপত্রও। এসবের টানে অনেক নবীন‑প্রবীণ মানুষ এসে পড়াশোনা করেন। সব মিলিয়ে এই উদ্যান গ্রন্থাগারটি উত্তর কলকাতার একটি ‘উল্লেখযোগ্য’ স্থান হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসীরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ