নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সময়ের সঙ্গে একদিকে যেমন বিভিন্ন কাজে প্রযুক্তি নির্ভরতা বাড়ায় পদ প্রায় অবলুপ্ত হয়ে গিয়েছে, তেমন আবার কাজের পরিধি বেড়ে যাওয়ায় তা সামলানোর জন্য লোকবলও দরকার। লোকবলের অভাবে এখন রীতিমতো হিমশিম পরিস্থিতি কলকাতা পুরসভায়। কারণ, প্রায় ৩২ হাজার স্থায়ী পুর-শূণ্যপদ ফাঁকা পড়ে রয়েছে। এমনকী অবস্থা সামলাতে ৭২০০টির বেশি পদে নিয়োগের আর্জি জানিয়ে রাজ্যের কাছে পাঠানো ফাইলের কোনও ছাড়পত্র আসেনি। সম্প্রতি, পুর-অধিবেশেনে বিজেপি কাউন্সিলার সজল ঘোষের প্রশ্নের উত্তরে এমনটাই জানিয়েছেন পুরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগের মেয়র পারিষদ বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়।
পুরসভায় স্থায়ী শূন্য পদ কত ? নিয়োগ নিয়ে কী ভাবছে কর্তৃপক্ষ ? উত্তরে পুরসভার লোকবলের বেহাল ছবি উঠে আসে। বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘পুরসভায় অনুমোদিত স্থায়ী পদ ৪৬,৪১৮টি। এর মধ্যে স্থায়ী শূন্য পদের সংখ্যা ৩১,৯০০ টি।’ তিনি আরও জানান, ‘২২,৬২৪টি পদে সরাসরি নিয়োগ সম্ভব। ৭২৯৫টি পদে নিয়োগের জন্য রাজ্যের কাছে ফাইল পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ৮৬৪টি পদে নিয়োগের জন্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনকে জানানো হয়েছে। আরও বেশকিছু শূন্যপদে কর্মী নিয়োগের জন্য রাজ্যের কাছে ফাইল পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।’
পুর কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, ইতিমধ্যে পুরসভার কর্মী সংখ্যা পুনর্বিন্যাসের জন্য কমিটি তৈরি হয়েছে। কারণ, বহু পদ আছে যেগুলি সময়ের সঙ্গে এবং প্রযুক্তির জেরে আর নিয়োগের প্রয়োজন নেই। একইভাবে, অন্য ক্ষেত্রে নতুন পদ তৈরি করা প্রয়োজন। এই সবটা এই কমিটি ঠিক করবে। ফাইনাল রিপোর্ট তৈরির কাজ চলছে।
সজল ঘোষ বলেন, ‘রাজ্যে পাঁচ লক্ষের উপর শূন্য পদ। শুধু কলকাতা পুরসভায় তা ৩২ হাজার কাছাকাছি। পরিষেবা ধরে রাখা দুষ্কর হয়ে যাচ্ছে। বেকারদের কান্না এঁদের কানে ঢুকছে না । পুলিশ, দমকল, শিক্ষক, পুরসভা-সব জায়গায় পদ খালি। নিয়োগ করলেই দুর্নীতি করে। আর না হলে নিয়োগই করে না। সরকারিভাবেই জানতে চেয়েছিলাম। তাতেই বেহাল ছবি ফুটে উঠেছে। অবিলম্বে স্থায়ী পদে নিয়োগ দরকার।’
আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, অনুমোদিত পদে নিয়োগের জন্য এখন রাজ্য সরকারের অনুমতি লাগে। গোটা প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় আটকে। দফায় দফায় কর্মী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে ফাইল পাঠানো হয়। কিছু নিয়োগের জন্য মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনে বলা হয়েছে। এতদিন আইনি জটিলতায় নিয়োগ আটকে ছিল। এবার আশা করি পরীক্ষা হবে। তবে আপাতত বেশ কিছু কাজ চুক্তি ভিত্তিক কর্মী নিয়োগ করে সামাল দিচ্ছি।