সংবাদদাতা, করিমপুর: কলেজের মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের বিবাদের জেরে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে করিমপুর ডিরোজিও পিটিআই কলেজের প্রায় দু’শো ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ। রবিবার কলেজের সামনে বিক্ষোভ দেখান ক্ষুব্ধ পড়ুয়ারা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কলেজ কর্তৃপক্ষকে সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। কিন্তু, রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা পার হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি।
জানা গিয়েছে, ওই কলেজে ডিএলএড কোর্সে প্রথম বর্ষে প্রায় ১০০ এবং দ্বিতীয় বর্ষেও ১০০ ছাত্রছাত্রী আছেন। গত বছর প্রথম বর্ষের পড়ুয়ারা কোর্স ফি দিয়ে ভর্তি হন। কিন্তু কলেজের মালিকানা নিয়ে দু’পক্ষের বিবাদের জেরে তাঁদের পড়াশোনা কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ছাত্রছাত্রীদের দাবি, প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদের রেজিস্ট্রেশনের শেষ দিন ছিল গত ১৩ আগস্ট। আগামী ১৮ আগস্ট পরীক্ষার ফর্ম পূরণেরও শেষ দিন। অথচ রবিবার পর্যন্ত কোনো ছাত্রছাত্রীর রেজিস্ট্রেশন হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, কয়েক মাস আগেই কলেজ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তখন কলেজের তরফে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়।
প্রথম বর্ষের ছাত্রী কাঁঠালিয়ার লাবণী রায় বলেন, গত বছর ভর্তির সময় প্রত্যেক পড়ুয়ার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছিল। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর প্রথম বর্ষের পরীক্ষা। তার আগে রেজিস্ট্রেশন ও ফর্ম ফিলআপ করার কথা। কিন্তু, এখন কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, অপর মালিকপক্ষ গত বছর আমাদের ভর্তি করেনি। তাই এখন আর কিছু করা সম্ভব নয়। কয়েকদিন আগে বিষয়টি জানালে আমরা প্রয়োজনে অন্যত্র ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেতাম। এবছরের নতুন ভর্তি প্রক্রিয়াও ১৩ আগস্ট শেষ হয়ে গিয়েছে। ফলে কলেজের গাফিলতির কারণে আমাদের দু’বছর নষ্ট হতে বসেছে। কলেজের মালিকদের মধ্যে সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু তার জন্য ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হবে কেন?
এব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ প্রিয়াঙ্কা প্রধান বলেন, ছাত্রছাত্রীদের সমস্যার বিষয়টি জানি। ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে বিষয়টি নিয়ে আমি শিক্ষা সংসদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কলেজের ট্রাস্টি বোর্ডের সম্পাদক অহীন্দ্র বিশ্বাসের অভিযোগ, আগে ট্রাস্টি বোর্ডের হয়ে অশোক বিশ্বাস কলেজের বিষয়গুলি দেখতেন। তিনি প্রয়াত হওয়ার পর তাঁর স্ত্রী শিবশংকরী রায় ২০০০ সাল থেকে কলেজের হিসাবনিকাশ-সহ সমস্ত বিষয় দেখাশোনা করেন। ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভর্তিও তিনিই করেছেন। অথচ শিবশংকরীদেবী শিক্ষা সংসদকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি ২০২৫-’২৭ বর্ষের কোনো ছাত্রছাত্রীকে ভর্তি করেননি।
শিবশংকরীদেবী কিছুদিন আগে জানিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনিই কলেজ চালাচ্ছেন। তাঁর স্বামীর নিকট আত্মীয়রা কলেজের গেটে তালা মেরে দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে বন্ধ করে দিতে চাইছেন। এদিন শিবশংকরীদেবীর সঙ্গে ফোন ও মেসেজের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।