নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: মাঝেমধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে বারাকপুরে। আচমকা লোডশেডিংয়ের দাপটে নাজেহাল বাসিন্দারা। এলাকায় হুকিং করে বিদ্যুৎ চুরির বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এই অবস্থায় লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণে আনতে বুধবার বিদ্যুৎ দপ্তরের অফিসার, ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন নবনির্বাচিত বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। সেখানে বিদ্যুৎ দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা জানান, ‘ওভারলোডিং’ এবং হুকিংয়ের জন্য এই সমস্যা হচ্ছে। কিছু ট্রান্সফরমার পরিবর্তন করাও দরকার। কোথায় কোথায় এবং ক’টি ট্রান্সফরমার পরিবর্তন করা প্রয়োজন, তার তালিকা করতে বলেন বিধায়ক। কিছুদিনের মধ্যে ২০টি ট্রান্সফরমার বদলানো হবে বলে জানিয়েছেন কৌস্তভ।
তিনি বলেন, ‘বারাকপুরের বহু মানুষ আমাকে রিপোর্ট করেছেন, মাঝেমধ্যেই লোডশেডিং হচ্ছে বলে। ওভারলোডিং একটা সমস্যা। কিছু জায়গায় হুকিং চলছে। হুকিং কাটতে গেলে বাধা দেওয়ার ঘটনাও চলছে। আমি বিদ্যুৎ দপ্তরের অফিসারদের বলেছি, যেখানে হুকিং চলছে, সেখানে পুলিশ-প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে যাবেন। দেখি কে বাধা দেয়! প্রয়োজনে আমি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে নেব। তাছাড়া, ওভারলোডিংয়ের জন্য ট্রান্সফরমারে সমস্যা দেখা যাচ্ছে। সেইসব ট্রান্সফরমার অবিলম্বে পরিবর্তন করতে হবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রেখেই।’ বিধায়ক আরও বলেন, ‘আমাদের রাজ্যে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। তাহলে লোডশেডিং হবে কেন?’
এদিকে, এদিন বারাকপুর বি এন বসু হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে ডাক্তারের অভাব নিয়ে রিপোর্ট করা হয়। কোন কোন বিভাগে ডাক্তারের প্রয়োজন, তার বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন বিধায়ক। সেই সব রিপোর্ট নিয়ে স্বাস্থ্যদপ্তরে যাবেন বলে জানিয়েছেন। বি এন বসু হাসপাতালকে উন্নততর একটি হাসপাতাল করার পরিকল্পনা নিয়েছেন বলে জানান বিধায়ক। বৈঠকে তিনি বলে দিয়েছেন, ‘এই হাসপাতালকে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। রেফার হাসপাতাল হিসাবে পরিগণিত যেন না হয়।’
বিধায়ক আরও বলেন, ‘এই হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংকের সমস্যা রয়েছে। এ ব্যাপার আলোচনা হয়েছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের অভাব রয়েছে। দরকার স্টাফ। বিস্তারিত তালিকা তৈরি করতে বলেছি। তা নিয়ে স্বাস্থ্যদপ্তরে যাব। এই হাসপাতালকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ উন্নততর হাসপাতালে পরিণত করতে হবে।’ এই হাসপাতাল একটি আইসিসিইউ দরকার। সে ব্যাপারেও ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে বলে খবর।