নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: প্রতিদিন ২০ শতাংশ রিটার্ন! ১০০ টাকা বিনিয়োগ করলে একদিনেই ১২০ টাকা! ৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে একদিনে ৬ লক্ষ! এমন সুযোগ আর কে ছাড়ে? অচেনা নম্বর। যে ফোন করে এই প্রস্তাব দিয়েছিল, সেই তরুণীও অচেনা। ফোনের উপর ভরসা করেই ৩১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ফেলেছিলেন রাজারহাটের এক যুবক। ভুয়ো ট্রেডিং অ্যাপে তরতর করে বাড়ছিল টাকা। কিন্তু টাকা তুলতে গিয়েই মাথায় হাত! রিটার্ন তো দূরের কথা, বিনিয়োগ করা অর্থই জলে। তারপরই তিনি বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব খুইয়েছেন। ৩১ বছরের ওই যুবক বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। শুরু হয়েছে তদন্ত।
ঘটনা হল, এক তরুণী প্রথমে ওই যুবককে হোয়াটসঅ্যাপ করে। তারপর এক যুবক টেলিগ্রামে যোগাযোগ করে প্রতারিত যুবকের সঙ্গে। তাঁকে বিনিয়োগ নিয়ে নানা ধরনের স্কিমের কথা বলা হয়। শেয়ার ট্রেডিংয়ে কীভাবে লাভ মিলবে, তা নিয়ে তাঁকে নানা ধরনের প্রলোভন দেখানো হয়। ওই তরুণীও প্রলোভন দেখায়। তখন তাঁকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করা হয়। যুবক ধীরে ধীরে প্রভাবিত হতে শুরু করেন। তারপর কয়েক দফায় ৩১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা দিয়েও ফেলেন। সাইবার বিশেষজ্ঞদের কথায়, ইনভেস্টমেন্ট ফ্রড বা বিনিয়োগের নামে প্রতারণা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই একটিমাত্র প্রতারণায় শুধু প্রবীণ নাগরিক নয়, জালিয়াতদের টার্গেট হচ্ছে নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েও। কারণ, সকলেই রাতারাতি আরও বড়লোক হতে চাইছেন। কোনোরকম যাচাই না করেই বিনিয়োগ করে ফেলছেন তাঁরা। সেই সুযোগটাই নিচ্ছে প্রতারকরা। তারা হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করিয়ে নিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে প্রতারণা চালাচ্ছে।
অন্যদিকে, নিউটাউনের এক ব্যক্তি ফোনের মাধ্যমে ব্যাংকের কেওয়াইসি আপডেট করতে গিয়ে ৩ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা খুইয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যাংকের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে প্রতারকরা তাঁকে ফোন করেন। কেওয়াইসি আপডেট নেই বলে তাঁকে জানানো হয়। বাড়িতে বসে আপডেট করানোর জন্য তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে একটি লিঙ্ক পাঠানো হয়। ওই ব্যক্তি সেই লিঙ্কে ক্লিক করার পর দেখেন, তাঁর মোবাইলে পরপর মেসেজ ঢুকছে। ব্যাংক থেকে উধাও ৩ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা। তিনি নিউটাউন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত শুরু হয়েছে।