


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রায় মাইনাস এক ডিগ্রি থেকে একেবারে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে! মহিলা সংরক্ষণ বিল পাসের প্রক্রিয়া দেখার উদ্দেশ্যে একেবারে লাদাখ থেকে সংসদ ভবনে ‘ভিজিটর’ হিসাবে এসেছিলেন পদ্মজা এবং ডি-চেন। পদ্মজা সাহিত্য নাটক অ্যাকাডেমির পুরস্কার প্রাপ্ত। ডি-চেন একজন এনসিসি ক্যাডেট। লাদাখের স্থানীয় আঞ্চলিক পোশাকেই বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে হাজির হয়েছিলেন এই দুই মহিলা প্রতিনিধি। কেমন সেই পোশাক? গায়ে উলের জামা। মাথায় প্রমাণ সাইজের বড়ো বাহারি টুপি। পায়ে বিশেষ শুঁড় তোলা জুতো। সারা শরীরে স্থানীয় ঝুমকো গয়নার বাহার। মহিলাদের একটি প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসাবেই এদিন সংসদ ভবনে এসেছিলেন তাঁরা। যদিও ওই প্রতিনিধি দলে লাদাখ থেকে হাজির হয়েছিলেন শুধুমাত্র ওই দু’জনই।
বৃহস্পতিবার তাড়াহুড়ো করে ভিতরে ঢুকছিলেন তাঁরা। কারণ দলছুট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার মধ্যে বললেন, ‘এই বিল নিয়ে আমরা অত্যন্ত উৎসাহী। গোটা প্রক্রিয়াই সংসদে উপস্থিত থেকে প্রত্যক্ষ করতে চাই। তাই লাদাখ থেকে এসেছি।’ দিল্লিতে নিত্যদিন চড়ছে তাপমাত্রার পারদ। এমন আবহাওয়ায় পাহাড়ি স্থানীয় পোশাক পরে এলে রীতিমতো শারীরিক অস্বস্তি হওয়ার কথা। তবে পদ্মজা বা ডি-চেন দু’জনের কাউকে দেখেই অবশ্য তেমন মনে হয়নি।
বিরোধীদের আপত্তি সত্ত্বেও এদিন লোকসভায় পেশ হয়েছে সংবিধান ১৩১তম সংশোধনী বিল, ২০২৬, আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিল, ২০২৬ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল, ২০২৬। এদিন তানিয়ে আলোচনাও শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি, এই তিন বিলই ঐতিহাসিক। তাই তিনদিন সংসদের বাজেট অধিবেশনের বিশেষ পর্ব ডাকা হয়েছে। এহেন ‘ঐতিহাসিক’ মুহূর্তের সাক্ষী রাখতেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মহিলা প্রতিনিধিদের দিল্লিতে নিয়ে আসা হচ্ছে বিজেপির উদ্যোগে। তাদের একটি বড়ো অংশকে পার্লামেন্টে ‘ভিজিটর’ হিসাবে আনার উদ্যোগ নিয়েছে গেরুয়া শিবির। সেইমতো এদিন পদ্মজা এবং ডি-চেন ছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যের মহিলা প্রতিনিধিরা সংসদ ভবনে উপস্থিত ছিলেন। বিজেপির এহেন উদ্যোগের লক্ষ্য একটিই। বিরোধীদের সামনে প্রমাণ করা, তারা যতই আপত্তি করুক না কেন, আদতে দেশের মানুষ বিশেষত মহিলারা এর পক্ষে রয়েছেন! এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।