Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আজ মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে থাকতে পারেন পশ্চিম মেদিনীপুরের ২ তৃণমূল বিধায়ক

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকে পশ্চিম মেদিনীপুরের ২ তৃণমূল বিধায়ক উপস্থিত থাকতে পারেন। উন্নয়ন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। বিস্তারিত পড়ুন।

আজ মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে থাকতে পারেন পশ্চিম মেদিনীপুরের ২ তৃণমূল বিধায়ক
  • ৯ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: মঙ্গলবার তিন জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের প্রশাসনিক আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এই উন্নয়ন-সংক্রান্ত বৈঠক হবে। সূত্রের খবর, বৈঠকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দুই তৃণমূল বিধায়ক-কেশপুরের শিউলি সাহা এবং খড়্গপুর গ্রামীণের দীনেন রায় উপস্থিত থাকতে পারেন। সুযোগ পেলে নিজেদের এলাকার নানা সমস্যা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতির কথা তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরতে পারেন।

Advertisement

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা একসময় বামফ্রন্টের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি ছিল। রাজনৈতিক মহলে একটি কথা প্রচলিত ছিল-‘পশ্চিম মেদিনীপুর যেদিকে, রাজ্য সেদিকে।’ পরে এই জেলার কেশপুর, মেদিনীপুর, গড়বেতা সহ বেশিরভাগ এলাকাতেই তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্য দেখা যায়। এই জেলা থেকে বিপুল আসন পেয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় থাকতে সুবিধা হত তৃণমূলের।
কিন্তু, গত বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের পাশাপাশি এই জেলাতেও গেরুয়া ঝড় ওঠে। জেলার বেশিরভাগ আসনে বিজেপি জয়ী হলেও কেশপুর ও খড়্গপুর গ্রামীণ বিধানসভা কেন্দ্র তৃণমূল ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফলে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে এই দুই বিধায়কের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়েছে। জয়ের পর তাঁরা ইতিমধ্যেই মেদিনীপুরে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে একটি প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। এখন তাঁরা ‘নতুন তৃণমূল’-এর অন্যতম মুখ। তাই মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে তাঁদের ভূমিকার উপর রাজনৈতিক মহলের নজর থাকবে।
তৃণমূলের জেলাস্তরের এক নেতা বলেন, আমাদের বহু নেতা-কর্মী ঘরছাড়া বা নানা সমস্যায় রয়েছেন। বিভিন্ন মামলায় একাধিক নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। সুযোগ পেলে বিধায়কদের এমস্ত বিষয় মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা উচিত। এছাড়া, বর্ষায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় জল জমে যায়। বেহাল রাস্তা, পানীয় জলের সমস্যাও রয়েছে। এসবও মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনা প্রয়োজন।
কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা বলেন, কথা বলার সুযোগ পেলে এলাকার দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা মুখ্যমন্ত্রীর গোচরে আনব। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান তাড়াতাড়ি বাস্তবায়ন জরুরি। কেশপুরের বেশ কয়েকটি এলাকায় রাস্তা ও পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। সুযোগ পেলে তাও তুলে ধরব। বিধায়ক দীনেন রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় তাঁর প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তবে প্রশাসনিক সূত্রে খবর, তিনিও বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। মেদিনীপুরের বিজেপি বিধায়ক শংকর গুছাইত বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ শোনার জন্য মুখিয়ে আছি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হলে শুধু ঘাটাল নয়, পশ্চিম মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যা ও জলাবদ্ধতার সমস্যা থেকে অনেকটাই মুক্তি পাবে। তাই এই প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রবল প্রত্যাশা রয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ