


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাত-পায়ে প্রতিবন্ধকতা থাকলেও চলাফেরায় তার প্রভাব পড়বে না। স্রেফ চোখের ইশারায় চলবে হুইল চেয়ার। এমনকী, ওই ব্যক্তি অসুস্থ হলে কিংবা বিপদে পড়লে হুইল চেয়ারে বসেই জরুরি সংকেত পাঠাতে পারবেন পরিজনদের মোবাইলে। এমন অত্যাধুনিক হুইল চেয়ারের দাম কত হতে পারে? দশ হাজার, বিশ হাজার, পঞ্চাশ হাজার, নাকি লক্ষাধিক? দাম দিলেও এই ধরনের হুইল চেয়ার এদেশে মিলবে কি না সন্দেহ! তবে সবাইকে তাক লাগিয়ে একটি সাধারণ স্মার্টফোনের দামেই এই হুইল চেয়ারের মডেল বানিয়েছে ডোমজুড়ের দুই পড়ুয়া অয়ন দাস ও প্লাবন পাল। জাতীয় বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে প্রথম স্থান দখল করেছে তাদের তৈরি এই মডেল।
ডোমজুড়ের বেগড়ি হাইস্কুলের একাদশ শ্রেণিতে পড়ে অয়ন ও প্লাবন। ২৮ তম জাতীয় বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার জন্য দু’জনেই এমন কিছু তৈরির পরিকল্পনা করে, যেখানে প্রযুক্তির অঙ্গুলিহেলনে অঙ্গহীন ব্যক্তিও দৈনন্দিন কাজে সক্ষম হয়ে উঠবেন। অত্যাধুনিক হুইল চেয়ার বানাতে অনুসন্ধিৎসু দুই পড়ুয়াকে পথ দেখান স্কুলের পদার্থবিদ্যার শিক্ষক প্রীতিময় ভট্টাচার্য। অল্প সময়ের মধ্যেই কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয় হুইল চেয়ারের মডেল। এতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর। যার সাহায্যে হাত-পা, এমনকী চোখের ইশারায় হুইল চেয়ারকে বিভিন্ন দিকে পরিচালনা করতে পারবেন কোনও ব্যক্তি। অসুস্থ বোধ করলে হুইল চেয়ারের সঙ্গে যুক্ত ইমার্জেন্সি বোতামে চাপ দিলেই পরিজনের মোবাইলে বার্তা পৌঁছে যাবে। বাড়িতে টিভি, ফ্রিজ, এসি, ফ্যান সব কিছুই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে হুইল চেয়ারে বসে। রাস্তায় চলার সময় নিরাপত্তার প্রশ্নেও গুরুত্ব দিয়েছে দুই পড়ুয়া। স্পিড ব্রেকার সামনে এলেই সেন্সরের সংকেতে গতি কমে আসবে হুইল চেয়ারের। রয়েছে জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের সুবিধাও। মাত্র ১২ ভোল্টের ব্যাটারি দিয়েই চলবে এই হুইল চেয়ার।
২১-২৪ আগস্ট সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে বসেছিল ২৮ তম জাতীয় বিজ্ঞান প্রদর্শনী। একশোটিরও বেশি স্কুলের পড়ুয়াদের কীর্তির সঙ্গে টক্কর দিয়েছিল অয়ন ও প্লাবনের তৈরি মডেল। সিনিয়র বিভাগের মূল পর্বে ৩২টি স্কুলের মধ্যে সেরার শিরোপা জিতে নেয় তারা। অয়ন ও প্লাবন বলে, ‘এই হুইল চেয়ার তৈরি করতে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। তবে সংখ্যায় বেশি হলে এটি ১২ হাজার টাকাতেও তৈরি করা সম্ভব। আগামী দিনে বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য আমরা নতুন কিছু করতে চাই।’ স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিপ্লব গিরি বলেন, ‘সিনিয়র ও জুনিয়র দুই বিভাগেই আমাদের স্কুলের মডেল মূল পর্বে বিবেচিত হয়। দুই পড়ুয়ার এই সাফল্যে আমরা গর্বিত।’ জেলা স্কুল পরিদর্শক আসানুল করিম বলেন, ‘জাতীয় বিজ্ঞান প্রদর্শনীতে জেলার এই প্রাপ্তি অত্যন্ত গর্বের। শুধু পাঠ্যবইয়ে নয়, পড়ুয়াদের মধ্যে প্রযুক্তির জ্ঞান এভাবেই এক্সপেরিমেন্টের মধ্যে দিয়ে বিকশিত হোক।’ নিজস্ব চিত্র