Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এসআইআর ভয়ে আত্মঘাতী আরও ২

একজন উলুবেড়িয়ার খলিসানি-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মালপাড়ার বাসিন্দা জাহির মাল (৩০)। অপরজন কান্দি পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের নামু বাঘডাঙা এলাকার মোহন শেখ (৫৫)।

এসআইআর ভয়ে  আত্মঘাতী আরও ২
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া ও নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: একজন উলুবেড়িয়ার খলিসানি-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মালপাড়ার বাসিন্দা জাহির মাল (৩০)। অপরজন কান্দি পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের নামু বাঘডাঙা এলাকার মোহন শেখ (৫৫)। রাজ্যে শুরু হওয়া স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) পর্বে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা ক্রমেই গ্রাস করছিল দক্ষিণবঙ্গের দুই প্রান্তের দুই মানুষকে। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নাগরিকত্ব থাকবে কি না, সে চিন্তা দিনভর কুরে কুরে খাচ্ছিল দু’জনকেই। পরিণতি! মঙ্গলবার ইনিউমারেশন ফর্ম বিতরণের প্রথম দিন সকালে জাহির মাল গলায় গামছা পেঁচিয়ে, আর মোহন শেখ কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন। 

Advertisement

কী কারণে আত্মঘাতী হলেন তাঁরা? উলুবেড়িয়ার জাহির মালের স্ত্রী রোজিনা বিবির কথায়, ‘২০০২-এর ভোটার তালিকায় শ্বশুর-শাশুড়ি দু’জনেরই নাম রয়েছে। তাঁদের নাম জামির শেখ এবং রাবিয়া সেখ। কিন্তু ২০২৫-এর ভোটার তালিকায় শ্বশুরের নাম হয়েছে জামির মাল। কিন্তু সেই জামির শেখই যে জামির মাল, তা কীভাবে প্রমাণ করবেন? সেটা ভেবেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন আমার স্বামী। লোকজনের কাছে ছুটছিলেন। কোনও উপায় মিলছিল না। বারবার বলছিলেন, দেশ থেকে বের করে দেবে। সোমবার সন্ধ্যাতেও একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। তখন ঠেকানো গিয়েছিল। আজ সকালে শাশুড়ি বাজারে গিয়েছিলেন, আমি বাইরে জামাকাপড় ধুচ্ছিলাম। সেই ফাঁকে ঘরের মধ্যে গলায় গামছার ফাঁস দিয়ে ঝুলে পড়েন।’ জাহিরের মৃত্যুর খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তাঁর বাড়িতে যান মন্ত্রী পুলক রায়। দলের তরফে পরিবারের পাশে থেকে সর্বোতভাবে সাহায্যের আশ্বাস দিয়ে আসেন তিনি। অপরদিকে কান্দির মোহন শেখ ২০০৪-এর লোকসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন। কিন্তু কমিশন প্রকাশিত ২০০২-এর তালিকায় নাম না থাকায় ক্রমেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। মৃতের স্ত্রী হেনু বিবির কথায়, ‘২০০২-এর তালিকায় দেখা যাচ্ছে, স্বামীর এবং আমার কারও নাম নেই। বারবার বলছিলেন, সরকার জেলে পুরবে! বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে। চরম আতঙ্কে ভুগছিলেন। সেই আশঙ্কা থেকেই কীটনাশক খেয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন।’ কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকারের কথায়, ‘১৬২ সালের জমির দলিল রয়েছে পরিবারের। কিন্তু ২০০২-এর তালিকায় তাঁদের নাম নেই। সেই আতঙ্কেই এই পথ বেছে নিলেন মোহন শেখ।’ এরই মধ্যে ২০০২-এর তালিকায় নাম না থাকায় এসআইআর আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন ইসরাইল মোল্লা (৬৫)। মুর্শিদাবাদের এই বাসিন্দা বেঙ্গালুরুতে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ