নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: গোঘাটের বেঙ্গাই পঞ্চায়েতের সেনাই গ্রামের প্রায় দু’কিলোমিটার রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা অবস্থায় রয়েছে। বৃষ্টি হলেই তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। জল জমে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে। বর্ষার আগে রাস্তা নির্মাণের দাবিতে সরব হয়েছেন বাসিন্দারা। এরজন্য সম্প্রতি তাঁরা গ্রামে বিক্ষোভও দেখান। এমনকী, রাস্তা মেরামতির দাবিতে বিভিন্ন দেওয়ালে পোস্টারও সাঁটান। প্রশাসন অবশ্য রাস্তা মেরামতির আশ্বাস দিয়েছে। আরামবাগের সাংসদ মিতালি বাগ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর বহু গ্রামের চেহারা বদলে দিয়েছেন। উন্নতি হয়েছে রাস্তাঘাটের। এমন বহু জায়গায় আগে ঢোকা যেত না। এখন সেখানে যাতায়াত করা যায় অনায়াসে। সেনাই গ্রামের ওই রাস্তাটি নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়েছি। দ্রুত রাস্তাটি হয়ে যাবে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোঘাটের বেঙ্গাই চৌমাথা থেকে একলক্ষ্মী পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তা থেকে কিছুটা ভিতরে সেনাই গ্রাম। সেখানে হাজার খানেক ভোটার রয়েছেন। গ্রামের এক মাত্র রাস্তা এখনও কাঁচা অবস্থায় রয়েছে। তাতেই বিপাকে পড়েছে বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা সুমন্ত পান বলেন, বিগত প্রায় ১০ বছর ধরে রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে গণস্বাক্ষর সম্বলিত আবেদন জানানো হয়। শুধু প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছু মেলেনি। তাই এখনও রাস্তাটি না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন বাসিন্দারা। আমরা প্রশাসনের কাছে এখনও রাস্তা নিয়ে দরবার করছি। স্থানীয় বাসিন্দা তাপস ঘোষ, সুচিত্রা ঘোষ, গণেশ ঘোষ বলেন, রাস্তায় গাড়ি চলাচল তো দূর, হেঁটে পর্যন্ত যাতায়াত করা যাচ্ছে না। স্কুল পড়ুয়া শিশুদের হেঁটে মূল রাস্তা পর্যন্ত যেতে হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্স বা অন্যান্য গাড়ি ঢুকতেও অস্বীকার করে। এমন রাস্তায় কীভাবে মানুষ চলাচল করবে! তাই আমরা চাই দ্রুত রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করুক প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সেনাই গ্রামের ওই রাস্তা শীতলা মন্দির থেকে রামঘোষা পুকুর পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু বেহাল অবস্থার জেরে ক্রমশ তা সরু হয়ে যাচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে পড়ছে। তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে যাচ্ছে। বিগত বর্ষাগুলিতে অত্যন্ত সমস্যার মধ্যে যাতায়াত করতে হয়েছে বাসিন্দাদের। তাই এই বছর বর্ষার আগেই রাস্তার দাবিতে তাঁরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। এরজন্য তাঁরা বিক্ষোভও দেখিয়েছেন। বাসিন্দারা বলেন, এই রাস্তা ব্যবহার করেই নিত্যদিন বাজার, স্কুল, কলেজ, হাসপাতালে যেতে হয়। প্রতিদিনই তাঁদের দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।



