Bartaman Logo
৩০ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ক্যানসার রোগীর স্ত্রীর থেকে তোলা আদায়, অভিযুক্ত ২ বিজেপি নেতা

স্বামী ক্যানসারে আক্রান্ত। কেমোথেরাপি চলছে। স্ত্রী ফুটপাতে বসে সবজি বিক্রি করে সংসার চালান, স্বামীর চিকিৎসার খরচ জোগান।

ক্যানসার রোগীর স্ত্রীর থেকে তোলা  আদায়, অভিযুক্ত ২ বিজেপি নেতা
  • ৩০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: স্বামী ক্যানসারে আক্রান্ত। কেমোথেরাপি চলছে। স্ত্রী ফুটপাতে বসে সবজি বিক্রি করে সংসার চালান, স্বামীর চিকিৎসার খরচ জোগান। অভিযোগ, এই অসহায় ও দরিদ্র দম্পতিকে ভয় দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা তোলা আদায় করেন বিজেপির দুই স্থানীয় নেতা। নামখানা থানায় ঘটনার অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তোলাবাজিতে অভিযুক্ত এক নেতার নাম বিপ্লব নায়েক। এই ঘটনায় বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, ‘দলে বেনোজল ঢুকে পড়ায় এরূপ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’ ১০ হাজার টাকা দিয়ে পরিবারটি প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। ক্যানসারে আক্রান্তের ঠিকমতো চিকিৎসা পর্যন্ত হচ্ছে না।

Advertisement

জানা গিয়েছে, ক্যানসার আক্রান্ত নিমাই দাসের পুত্রের সঙ্গে এক প্রতিবেশীর কন্যার বিবাহের সম্বন্ধ হয়। কিন্তু মেয়েটির বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়ায় পুলিশ বিয়ে বন্ধ করে দিয়েছিল। তারপর আলোচনার জন্য দু’টি পরিবারকে ডেকেছিল থানায়। অভিযোগ, সে সময় বিজেপি নেতা বিপ্লব নায়েক ও আর একজন বিজেপি নেতা থানায় পৌঁছে যান। তারপর থানার ওসিকে টাকা দিতে হবে বলে দশ হাজার টাকা চান। অভিযোগকারীর পুত্রকে জেলে ঢুকিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। এরপরই নিমাইবাবুর স্ত্রী বহু কষ্টে দশ হাজার টাকা জোগাড় করে তুলে দেন বিজেপির দুই নেতার হাতে।
মথুরাপুর লোকসভার কনভেনর এবং নামখানার বিজেপি নেতা অরুণকুমার জানা বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি, বিপ্লব নায়েক সহ আরও একজন ক্যানসার আক্রান্ত এক রোগীর স্ত্রীর কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে দশহাজার টাকা নিয়েছেন। বিজেপি এরূপ কাজ কোনোদিন সমর্থন করে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানিয়েছি।’ অন্যদিকে অভিযুক্ত বিজেপি নেতা বিপ্লব নায়েক বলেছেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। তবে যে অভিযোগটার বিষয়ে বলা হচ্ছে ওই রকম কোনো ঘটনার সঙ্গে আমি যুক্ত নই।’ অভিযোগকারী মিনা দাস জানান, স্বামী ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাঁর কেমো চলছে। আর তিনি নিজে ফুটপাতে সবজির দোকান দিয়ে কোনোরকমে সংসার চালান ও স্বামীর ক্যানসারের চিকিৎসা করান। তিনি বলেন, ‘বিপ্লব নায়েক আর এক বিজেপি নেতা আমাকে ভয় দেখিয়ে দশ হাজার টাকা নিয়েছে। এ কারণে আমি এখন স্বামীর চিকিৎসা করতে পারছি না। এর ফলে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। নামখানা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ