


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলাদেশি মডেল শান্তা পালকে ভুয়ো আধার, ভোটার কার্ড সহ বিভিন্ন জাল ভারতীয় নথি তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করল লালবাজার। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের নাম সৌমিক দত্ত ও মমতাজউদ্দিন। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৩টি জাল ভোটার কার্ড, পাঁচটি ভুয়ো আধার সহ একাধিক নকল ভারতীয় নথি। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নৈহাটির বাসিন্দা সৌমিক ও পূর্ব বর্ধমানের মমতাজউদ্দিনের সঙ্গে শান্তার পরিচয় হয়েছিল ফেসবুকে। অভিযুক্তরা প্যান আধার সহ বিভিন্ন ভারতীয় নথি তৈরি করে দেওয়ার বিজ্ঞাপন দিয়েছিল সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে। সেখান থেকেই তাদের সঙ্গে বাংলাদেশি এই কেবিন ক্রু’র যোগাযোগ গড়ে ওঠে। ইউপিআই লেনদেনের সূত্র ধরে খোঁজ পাওয়া যায় তাদের।
কয়েকদিন আগে যাদবপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বাংলাদেশি মডেল শান্তাকে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় ভারতের ভুয়ো আধার, ভোটার কার্ড, প্যান সহ বিভিন্ন জাল নথি। একটি আধার, ভোটার কার্ড পাওয়া যায় যাদবপুরের ঠিকানায়। আরও একটি আধার, ভোটার মেলে পূর্ব বর্ধমানের মেমারির ঠিকানায়। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, দুই দালালের মাধ্যমে এই জাল নথিগুলি তৈরি ও সরবরাহ হয়েছে। দালালদের একজন নৈহাটির। অন্যজন মেমারির। শান্তা জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন, ফেসবুকে তাঁর নজরে পড়ে যে দু’জন আধার, ভোটার কর্ডে সহ বিভিন্ন ভারতীয় নথি তৈরি করে দেবে বলে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন শান্তা। সৌমিক তাঁকে যাদবপুরের ঠিকানায় আধার, ভোটার কার্ড করে দেয়। মমতাজউদ্দিন মেমারির ঠিকানার নথি তৈরিতে সাহায্য করেছে।
পুলিস খোঁজ করতে গিয়ে আরো জানতে পারে, সৌমিকের নৈহাটিতে একটি ফটোকপি করানোর দোকান রয়েছে। সেখানেই আধার, প্যান সহ বিভিন্ন নথি তৈরি করা হয়। তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, এখান থেকেই অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের ভুয়ো ভারতীয় নথি তৈরি হচ্ছে। সোমবার রাতে নৈহাটির সেই বাড়িতে হানা দিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। অন্য একটি টিম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মেমারি থেকে মমতাজউদ্দিনকে ধরে। দু’জনেই জেরায় তদন্তকারীদের জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে সীমান্তের ‘ধুর পার্টি’র যোগাযোগ রয়েছে। এই ‘ধুর পার্টি’ই অনুপ্রবেশকারীদের তথ্য পাঠাত। সেইমতো তারা ভুয়ো ঠিকানা দেখিয়ে আধার, ভোটার, রেশন কার্ড, বার্থ সার্টিফিকেট সহ বিভিন্ন নথি তৈরি করে দিত। এভাবে কতজনের ভুয়ো নথি তৈরি করেছে, তা জানতে চলছে আরও জিজ্ঞাসাবাদ।