সুকান্ত বেরা, কলকাতা: তিরাশির ২৫ জুন। ক্লাইভ লয়েডের ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে প্রথম একদিনের বিশ্বকাপ জেতে ভারত। অদম্য জেদেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছিল ‘কপিল ডেভিলস’। এই জয় শুধু ক্রিকেটারদের নয়, দেশবাসীকে চাগিয়ে দিয়েছিল। চার দশক পরেও সোনালি অতীত তরতাজা। সেই দলের সদস্য কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্ত ডুব দিলেন স্মৃতিরোমন্থনে।
প্রশ্ন: দেখতে দেখতে ৪২ বছর কেটে গেল... আজও অনুভূতি কেমন?
শ্রীকান্ত: সময় কীভাবে পেরিয়ে গেল তা টেরই পেলাম না। তিরাশির বিশ্বকাপ জয় শুধু ক্রিকেটের নয়, ভারতবাসীর গর্বের বিষয়। তার পরেও আমরা ওয়ান ডে এবং টি-২০ মিলিয়ে দু’বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। কিন্তু ওল্ড ইজ গোল্ড...। প্রথমবার ভারতের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ঘটনা তাই সকলের স্মৃতিতে আজও সমানভাবে তরতাজা।
প্রশ্ন: কপিল দেবের নেতৃত্ব নিয়ে কী বলবেন?
শ্রীকান্ত: সত্যি বলতে কী, তিরাশির বিশ্বকাপকে আমরা খুব সিরিয়াস নিইনি। তার আগের দুটো টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। তাই অনেকেরই প্ল্যান ছিল, প্রতিযোগিতা শেষে আমেরিকা ঘুরতে যাওয়ার। কেউ ভাবতেও পারেনি আমরা ট্রফি হাতে ফিরব। কিন্তু কপিলের হার না মানা মানসিকতা ক্রমশ সকলের চিন্তাভাবনায় বদল আনে। শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস করতে শুরু করি—হ্যাঁ, আমরাও পারি।
প্রশ্ন: আপনার চোখে টার্নিং পয়েন্ট?
শ্রীকান্ত: প্রথম ম্যাচেই আমরা দু’বারের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাই— সেটাই ছিল টার্নিং পয়েন্ট। গার্নার, হোল্ডিং, মার্শালদের বোলিং সামলে জয়—বিশ্বাস করতে অনেকটা সময় লেগেছিল।
প্রশ্ন: ফাইনাল ম্যাচটা নিশ্চয়ই ফিরে দেখার চেষ্টা করেন...
শ্রীকান্ত: সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। তবে ফাইনালের শুরুটা ভালো হয়নি। সানি ফিরে গেল প্যাভিলিয়নে। আমারও ব্যাটে-বলে হচ্ছিল না। উল্টোদিক থেকে জিমি (মহিন্দার অমরনাথ) এসে বলল, নিজের স্বাভাবিক খেলা খেলতে। আমার ৩৮ রান শেষ পর্যন্ত ম্যাচের সর্বাধিক স্কোর ছিল। তখন বুঝিনি, এটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
প্রশ্ন: এই জয় কতটা প্রভাব ফেলেছিল ভারতীয় ক্রিকেটে?
শ্রীকান্ত: এখন তো আমরা ক্রিকেটের সুপার পাওয়ার। সব ফরম্যাটেই ভারতের দাপট। আর তার সূচনা হয়েছিল তিরাশির বিশ্বকাপ জয়ের মধ্যে দিয়ে। তার আগে অন্য কেউ বিশ্বাসই করতে না ভারত বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবে। অনেকে বলতেন, ওটা পড়ে পাওয়া। কিন্তু ১৯৮৫ সালে আমরা অস্ট্রেলিয়ায় বেনসন অ্যান্ড হেজেস
কাপ জিতলাম। তখন সবাই বুঝল, তিরাশির সাফল্য ফ্লুক নয়।
প্রশ্ন: ফেরা যাক বর্তমানে। গিলের নেতৃত্বে ভারতীয় ক্রিকেটে শুরু হল নতুন যুগ। কীভাবে দেখছেন?
শ্রীকান্ত: খুবই ইতিবাচক। তারুণ্যে ভরা এই দলের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। যশস্বী, গিল, লোকেশ...প্রতিভার ছড়াছড়ি। ঋষভের আগ্রাসী ব্যাটিং দেখে মুগ্ধ। আমি মোটেও ওকে বল করতে চাইতাম না।
প্রশ্ন: বুমরাহকে নিয়ে কি বলবেন?
শ্রীকান্ত: জিনিয়াস। ওয়ান ম্যান আর্মি। সব টুর্নামেন্টে বুমরাহই আমাদের জেতাচ্ছে। ও জাতীয় সম্পদ।
প্রশ্ন: সিরিজের ফল কী হতে পারে?
শ্রীকান্ত: ব্যবধান বলতে পারব না, তবে ভারতই জিতবে।