বেঙ্গালুরু: সরকারি আবাসিক স্কুল। সেখানে থেকে ১৭২ পড়ুয়া নিয়মিত ক্লাস করে। কিন্তু কোনো বাড়ি ছাড়াই চলছে এই স্কুল। আছে একটা গোয়ালঘর। সেটাই স্কুলের ক্লাসরুম। আবার সেটাই পড়ুয়াদের থাকার জায়গাও। অভিযোগ, দীর্ঘ ৫ বছর ধরে গোয়াল ঘরেই চলছে আবাসিক স্কুল। বিষয়টা প্রকাশ্যে আসতেই হইচই শুরু হয়েছে কর্ণাটকের হাসান তালুকের শান্তিগ্রামে। প্রশ্নের মুখে পড়েছে রাজ্যের কংগ্রেস সরকার।
দেশজুড়ে ‘স্কুল ঠিক করো’ অভিযানে নেমেছে ককরোচ পার্টি। ইতিমধ্যেই রাজস্থান সহ বিভিন্ন রাজ্যের স্কুলের বেহাল দশা সামনে এসেছে এই অভিযানে। চাপের মুখে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এরইমধ্যে কর্ণাটকের ওই ড. বি আর আম্বেদকর রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের চূড়ান্ত অব্যবস্থা অস্বস্তিতে ফেলেছে রাজ্য সরকারকে। রাজ্যের সমাজকল্যাণ দপ্তরের অধীনস্ত স্কুলটিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। ৯২ জন ছাত্র ও ৮০ জন ছাত্রী। নেই শুধু আলাদা স্কুল বাড়ি। তাই গোয়ালে তাদের রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ। একই জায়গায় চলছে ক্লাস, খাওয়াদাওয়া। সেটাই থাকার জায়গা। ফলে স্কুলের পরিকাঠামো ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুধু তাই নয়, ৯২ জন ছাত্রের জন্য রয়েছে মাত্র পাঁচটি শৌচাগার। ছাত্রীদের জন্যও পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নেই বলে অভিযোগ। বদ্ধ গোয়ালঘরটিতেও পাকা ছাদ নেই। আলো-বাতাস ঢোকে না বললেই চলে। এমনকি পড়ুয়াদের বসার জন্য বেঞ্চও নেই। মেঝেতে বসেই ক্লাস করতে হয়। এই ঘটনায় কর্ণাটকের শিক্ষামন্ত্রী মধু বাঙ্গারাপ্পা বলেছেন, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছ থেকে পুরো বিষয়টির রিপোর্ট চাওয়া হবে। তাঁর দাবি, নতুন স্কুলবাড়ি তৈরির অনুমোদন মিললে অনেক সময় প্রাথমিকভাবে অস্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়। তবে পড়ুয়াদের গোয়ালে রেখে পড়াশোনা করানো গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে সমাজকল্যাণ দপ্তর জানিয়েছে, নতুন স্কুল বাড়ি তৈরির কাজ চলছে। বিকল্প জায়গা না পাওয়ায় অস্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়। কর্ণাটকের বিরোধী দলনেতা আর অশোক কংগ্রেস সরকারকে নিশানা করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের পড়ুয়াদের জন্য ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাও নেই কেন? তাঁর অভিযোগ, ওই গোয়ালের জন্য সরকার প্রতি মাসে ১.০৮ লক্ষ টাকা ভাড়া দিচ্ছে। অথচ এমন করুণ অবস্থা। দ্রুত পড়ুয়াদের উপযুক্ত পরিকাঠামোযুক্ত বাড়িতে সরানোর দাবি জানিয়েছেন তিনি। খরচের বিষয়টি নিয়েও তদন্তেরও দাবি করেছেন বিজেপি নেতা অশোক। দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।