মঙ্গল ঘোষ, পুরাতন মালদহ: ১০০ বছর আগের কথা। ওই সময় পুরাতন মালদহ শহরে প্রচুর সম্পন্ন বণিকরা বসবাস করতেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন স্বর্গীয় অন্নপূর্ণা পোদ্দার। তাঁদের সোনা এবং রুপোর ব্যবসা ছিল। অন্নপূর্ণা দেবীর উদ্যোগেই ১৩২১ বঙ্গাব্দে পুরাতন মালদহ শহরে পিতলের রথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই সময় কলকাতা থেকে কারিগর এনে ছ’মাসের মধ্যে ১৭ ফুটের ঐতিহ্যবাহী রথ নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই রথ আজও পুরাতন মালদহ শহরে ঐতিহ্য এবং গড়িমায় অমলিন হয়ে রয়েছে। এবারও বেশকিছু নিয়ম নিষ্ঠা এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে ওই পিতলের রথযাত্রা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। জেলায় এই পিতলের রথ একেবারেই ব্যতিক্রমী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই রথে জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা এবং দেব দেবী আরোহণ করেন না। রথে থাকেন পিতলের রাধাকৃষ্ণ। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের হাতে মোহন বাঁশি , গলায় মালা থাকে। রথের ভিতরের কাঠামো এবং চাকা লোহার তৈরি। বাইরে অংশ পিতলের। এই রথে ন’টি চূড়া রয়েছে। সেগুলির মধ্যে রাজা, রানি এবং তাঁদের সৈন্যরা থাকেন। রথের মধ্যে দুটি পিতলের ঘোড়া রয়েছে। রথটি আহ্লাদমনি স্কুলপাড়া থেকে তৈলমুণ্ডাই পর্যন্ত ৬০০ মিটার পথ পরিক্রমা করে। রথযাত্রার দিন এই সজ্জিত রথ দেখতে এবং দড়ি টানতে ভিড় উপচে পড়ে। রথকে ঘিরে শহরে মেলা বসে যায়।
এই পিতলের রথের সঙ্গে স্থানীয়দের ভাবাবেগ জড়িয়ে রয়েছে। সেজন্য এখনও একাধিক নিয়ম পালন করে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। পোদ্দার পরিবারের পঞ্চম পুরুষ বিভাস পোদ্দার বলেন, ১৭৮ বছরের রথ। আগে কাঠের ছিল। ১৩২১ বঙ্গাব্দে স্বর্গীয় অন্নপূর্ণা পোদ্দার পিতলের রথ নির্মাণ করেন। এখনও পরিবারের সবাই মিলে রথযাত্রা উৎসব পালন করি। একদিন আগে রাতে অধিবাস হয়েছে। রথের দিন সকালে গ্রাম্য পুজো অর্থাৎ, স্থানীয় এলাকার বিভিন্ন মন্দিরে পুজো দেওয়া হয়। রথে রাধাকৃষ্ণ বিরাজ করেন। প্রভুকে চামুণ্ডা ঠাকুরবাড়িতে রেখে সেবাযত্ন করা হয়। তিনি আরও বলেন, রথ সহ ন’টি চূড়া, হাতি, রাজা, সৈন্য সবই পিতলের তৈরি। বছরভর এগুলি খুলে রাখা হয়। তবে সুন্দর করে সাজানো হয় রথের দিন। পিতলের ১৭ ফুটের রথ উত্তরবঙ্গে খুব কম রয়েছে। পূর্ব পুরুষদের নির্দেশে আমরা ঐতিহ্য ধরে রেখেছি।



