


দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: গত দু’বছরে প্রায় ১৫ হাজার অভিযোগ দায়ের। তার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার সাড়ে ১৬ হাজারের কিছু বেশি। একের পর এক অভিযোগে রেলের দালালদের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ শুরু কেন্দ্রীয় সরকারের। কিন্তু এরপরেও সাধারণ যাত্রীদের জন্য ট্রেনে কনফার্মড টিকিট নিশ্চিত করা যাচ্ছে কি?
বুধবার কনফার্মড টিকিট সংক্রান্ত বিষয়ে সংসদে লিখিত প্রশ্ন করেন সমাজবাদী পার্টির (সপা) লোকসভার সাংসদ আনন্দ ভাদৌরিয়া। তারই লিখিত জবাবে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এদিন জানিয়েছেন, রেল আইনের ১৪৩ নং ধারায় দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নিয়ম আছে। সেইমতো ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দালালদের বিরুদ্ধে মোট ১৪ হাজার ৭৭৮টি অভিযোগ দায়ের করেছে আরপিএফ। ওইসব অভিযোগের ভিত্তিতে উল্লিখিত দু’বছরে মোট ১৬ হাজার ৬১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরই পাশাপাশি এদিন রেলমন্ত্রী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে প্রায় ৪ হাজার ৬০০টি মেল, এক্সপ্রেস, প্যাসেঞ্জার এবং স্পেশাল ট্রেন চালানো হয়েছিল প্রতিদিন। ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরের মে মাস পর্যন্ত তা বাড়িয়ে করা হয়েছে দৈনিক প্রায় ৫ হাজার ৩৮০টি। শুধুমাত্র স্পেশাল ট্রেনের সংখ্যাই তিন গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এদিন অন্য এক প্রশ্নের জবাবে লিখিতভাবে অশ্বিনী বৈষ্ণব এও জানিয়েছেন, ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে রেল ভাড়ায় প্রায় ৬০ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকার ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ট্রেনের যাত্রী ভাড়ার ৪৫ শতাংশ অর্থই মিটিয়েছে রেলমন্ত্রক।
বুধবার তৃণমূলের লোকসভার সদস্য মালা রায়ের এক প্রশ্নের জবাবে লিখিতভাবে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমানে কলকাতা মেট্রোর প্রায় ৫৬ কিলোমিটার অংশের বাস্তবায়নে হাত দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জমি জটের কারণে আটকে রয়েছে প্রায় ২০ কিলোমিটার অংশের কাজ। এক্ষেত্রে রাজ্য সরকার কোনওরকম সহযোগিতা করছে না। রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৪২ বছরে কলকাতা মেট্রোয় প্রায় ২৮ কিলোমিটার অংশের কাজ হয়েছিল। কিন্তু মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১১ বছরে ৪১ কিলোমিটার অংশের কাজ হয়েছে। বাজেট বরাদ্দও বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। এর মধ্যে গত পাঁচ বছরে কলকাতা মেট্রোর বিভিন্ন রক্ষণাবেক্ষণেই বরাদ্দ হয়েছে প্রায় ২৮ কোটি টাকা।